আজকাল অনেক বাড়িতেই দেখা যায়, বড়দের সঙ্গে সঙ্গে ছোট বাচ্চারাও চা খেতে শুরু করে। কখনও বিস্কুট ডুবিয়ে, কখনও আবার “আমিও খাবো” বলে জেদ ধরে। দেখতে নিরীহ লাগলেও সত্যিটা হলো—চা বাচ্চাদের শরীরের জন্য একদমই ভালো নয়। বিশেষ করে চায়ের মধ্যে থাকা ট্যানিন (Tannins) নামের উপাদানটা ছোটদের স্বাস্থ্যের জন্য বেশ ক্ষতিকর হতে পারে।
ট্যানিন বাচ্চাদের শরীরে কী ক্ষতি করে
ট্যানিন এমন একটি উপাদান, যা শরীরে ঢুকে খাবার থেকে দরকারি পুষ্টি শোষণে বাধা দেয়। বাচ্চাদের শরীর যেহেতু এখনও বেড়ে ওঠার পর্যায়ে, তাই এই ক্ষতির প্রভাব তাদের উপর অনেক বেশি পড়ে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা দেখা দেয় আয়রন শোষণে। আয়রন ঠিকমতো শোষিত না হলে বাচ্চারা দুর্বল হয়ে পড়ে, সহজে ক্লান্ত হয় এবং পড়াশোনায় মন বসে না। অনেক সময় রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
ক্যাফেইনের প্রভাব বাচ্চাদের উপর
চায়ে থাকা ক্যাফেইন বড়দের জন্য জাগিয়ে রাখার কাজ করলেও বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এটা উল্টো ক্ষতি করে। ক্যাফেইনের কারণে—
- বাচ্চারা অতিরিক্ত চঞ্চল হয়ে যায়
- রাতে ঠিকমতো ঘুমোতে পারে না
- বারবার ঘুম ভেঙে যায়
ভালো ঘুম না হলে বাচ্চাদের শরীর ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, যা ভবিষ্যতে বড় সমস্যার কারণ হতে পারে।
হজমের সমস্যাও তৈরি করে চা
চা খাওয়ার আরেকটা বড় সমস্যা হলো হজমের গোলমাল। ট্যানিন পেটের স্বাভাবিক কাজকর্মে বাধা দেয়। অনেক বাচ্চার ক্ষেত্রে চা খাওয়ার পর—
- পেট ব্যথা
- গ্যাস
- কোষ্ঠকাঠিন্য
এই ধরনের সমস্যা দেখা যায়। ধীরে ধীরে এতে তাদের খাওয়ার রুচিও কমে যেতে পারে, যা শরীরের জন্য মোটেও ভালো নয়।
দাঁতের উপর চায়ের খারাপ প্রভাব
চা শুধু শরীরের ভেতরেই নয়, দাঁতেরও ক্ষতি করে। চায়ের কালচে রং দাঁতে দাগ ফেলে। আর যদি চায়ের সঙ্গে চিনি মেশানো থাকে, তাহলে দাঁতে পোকা ধরা বা ক্যাভিটি হওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।
বাচ্চাদের জন্য চায়ের ভালো বিকল্প কী হতে পারে
চায়ের বদলে বাচ্চাদের দিতে পারেন—
- দুধ
- নারকেল জল
- ফলের রস
- সাধারণ জল
এগুলো শরীরকে পুষ্টি দেয়, হজমে সাহায্য করে এবং কোনও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না।
শেষ কথা
বন্ধুর মতো করে সহজ ভাষায় বললে—চা আমরা বড়রা যতই পছন্দ করি না কেন, বাচ্চাদের জন্য এটা একদমই দরকার নেই। বরং এতে উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি। একটু সচেতন হলেই আমরা আমাদের সন্তানের শরীরকে অনেক বড় বিপদ থেকে বাঁচাতে পারি। আজ থেকেই যদি চায়ের বদলে স্বাস্থ্যকর পানীয়ের অভ্যাস গড়ে তুলি, তাহলে তাদের সুস্থ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।













