আমাদের প্রতিদিনের যোগাযোগের বড় অংশটাই এখন হোয়াটসঅ্যাপেই হয়ে থাকে। চ্যাট, ছবি, ডকুমেন্ট পাঠানো, ভিডিও কল—সবই করা যায় সহজে। কিন্তু তার মাঝেও কিছু প্রয়োজনীয় ফিচার আছে, যেগুলো এখনও হোয়াটসঅ্যাপ দেয় না। আর সেই কারণেই বাজারে থাকা Arattai নামের অ্যাপটি অনেকের নজর কেড়েছে।
অ্যাপটির কিছু বিশেষ সুবিধা এতটাই কাজের, যে যেকোনো মানুষের মনেই প্রশ্ন জাগবে—“এগুলো হোয়াটসঅ্যাপে নেই কেন?”
এখানে Arattai-এর এমন চারটি ফিচার নিয়ে কথা বলা হলো, যেগুলো সত্যিই বাস্তবে কাজে লাগে এবং দৈনন্দিন কাজগুলোকে আরও সহজ করে তোলে।
১) অ্যাপের ভেতর থেকেই Zoom মিটিং—মিটিং সেটআপ এখন খুবই সহজ
হোয়াটসঅ্যাপে ভয়েস ও ভিডিও কল করা গেলেও Zoom মিটিং-এর মতো সিস্টেমেটিক মিটিং করার সুবিধা নেই।
অন্যদিকে Arattai অ্যাপে সরাসরি Zoom মিটিং ইন-বিল্ট থাকায় চ্যাট করতেই করতেই আপনি মিটিং চালু করে ফেলতে পারবেন।
লিংক কপি করা, আলাদা অ্যাপ খুলে ইনভাইট পাঠানো—এগুলো আর করতে হবে না।
কাদের জন্য বেশি দরকারি?
যারা অনলাইন ক্লাস, টিউশন বা মিটিং করেন
অফিস বা টিম-ওয়ার্ক করেন
বাড়িতে ছোটখাট গ্রুপ ডিসকাশন বা ইভেন্ট পরিকল্পনা করেন
মোট কথা, চ্যাট থেকে সরাসরি মিটিং করার স্বাধীনতাটা অনেক সময়ই বড় সুবিধা।
২) “Till I Reach” লোকেশন—পৌঁছানো পর্যন্ত আপনাকে ট্র্যাক করবে
হোয়াটসঅ্যাপে লাইভ লোকেশন পাঠানো যায় ঠিকই, কিন্তু সময় বেঁধে—১৫ মিনিট, ১ ঘণ্টা বা ৮ ঘণ্টা।
সমস্যা হলো, ধরুন কেউ বাড়ি ফিরছে, বা বাচ্চা স্কুল থেকে ফিরছে—তখন আমরা চাই “পৌঁছানো পর্যন্ত” লোকেশন দেখতে।
ঠিক এই কাজটাই করে Arattai-এর “Till I Reach” ফিচার।
আপনি লোকেশন শেয়ার করলে সেটা শুধুই তখন পর্যন্ত চলবে, যতক্ষণ না আপনি নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে যান।
এতে যে ভয় বা দুশ্চিন্তা থাকে, তা অনেকটাই কমে যায়।
বোনাস সুবিধা — গ্রুপ লোকেশন ভিউ:
এক মানচিত্রে পুরো গ্রুপের লোকেশন দেখানো হয়।
কেউ কোথায় আছে—একসাথে ট্র্যাক করা গেলে বন্ধুবান্ধবদের বা পরিবারের সদস্যদের মেলামেশা অনেক সহজ হয়।
৩) Pocket—সব জরুরি ডকুমেন্ট রাখার আলাদা সেফ ফোল্ডার
হোয়াটসঅ্যাপে ডকুমেন্ট খুঁজে বের করা অনেক সময় বিরক্তিকর—গ্যালারির ভিড়ের মাঝে খুঁজে পাওয়া কঠিন।
Arattai-এর Pocket ফিচার একে পুরোপুরি এড়িয়ে দেয়।
এখানে আপনি আপনার জরুরি নথিগুলো রাখতে পারেন—
আধার
ভোটার
প্যান
ড্রাইভিং লাইসেন্স
বা অন্য যেকোনো কাগজ
সবকিছু অ্যাপের ভিতরে আলাদা সিকিউর জায়গায় সেভ থাকবে।
যার প্রয়োজন, তাকে এক ট্যাপেই পাঠানো যায়।
গ্যালারি ঘাঁটতে হবে না, ফোল্ডার খুঁজতে হবে না।
কোথায় কাজে লাগবে?
হোটেলে আইডি দেওয়া
রেন্টাল বাইক/কারে ডকুমেন্ট পাঠানো
ব্যাংক/স্কুলে কোনো কপি পাঠানো
পরিচয় প্রমাণ করতে হবে এমন যে কোনো পরিস্থিতিতে
এই ফিচার সাধারণ মানুষের জন্য সত্যিই কাজে দেয়।
৪) গ্রুপ প্ল্যানিং—পোল, নোট, রিমাইন্ডার সব এক জায়গায়
অনেক সময় শুধু চ্যাটে আলোচনা করলেই হয় না—
মিটিংয়ের সময় ঠিক করতে হয়, কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেটা লিখে রাখতে হয়, বা গ্রুপের সদস্যদের মনে করিয়ে দিতে হয়।
হোয়াটসঅ্যাপ এসব কাজের জন্য আলাদা অ্যাপ ব্যবহার করতে বাধ্য করে।
কিন্তু Arattai-তে পোল, নোট এবং রিমাইন্ডার সিস্টেম ইন-বিল্ট।
এতে—
সবাই ভোট দিয়ে সময় ঠিক করতে পারে
ছোট ছোট নোট গ্রুপে সেভ হয়ে যায়
রিমাইন্ডার সেট করলে সেটা সবাই পায়
যারা কোনো ক্লাব, কমিটি বা পাড়ার ইভেন্ট পরিচালনা করেন, তাদের জন্য দারুণ সুবিধা।
তাহলে কি Arattai ব্যবহার করা উচিত?
এই চারটি ফিচার—Zoom মিটিং, Till I Reach লোকেশন, Pocket এবং গ্রুপ-প্ল্যানিং—সবাইকে একসাথে ব্যবহার করলে বোঝা যায় কেন অনেক মানুষ হোয়াটসঅ্যাপের পাশাপাশি Arattai-কে সেকেন্ডারি অ্যাপ হিসেবে রাখছেন।
এটা হোয়াটসঅ্যাপের বিকল্প নয়—
বরং এমন কিছু জায়গায় সাহায্য করে, যেখানে হোয়াটসঅ্যাপ এখনো পৌঁছায়নি।
তাই যদি আপনি—
পরিবারের নিরাপত্তা
দ্রুত মিটিং
জরুরি ডকুমেন্ট
বা গ্রুপ-প্ল্যানিং
—এসব কিছুকে গুরুত্ব দেন, তাহলে Arattai একবার ব্যবহার করে দেখতেই পারেন।













