কেন বন্ধ মোবাইলের লোকেশন জানা কঠিন?
ফোন বন্ধ হয়ে গেলে সেটি আর নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেটের সাথে যোগাযোগ করে না। ফলে রিয়েল-টাইম লোকেশন পাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু ফোনটি বন্ধ হওয়ার ঠিক আগে কোথায় ছিল, সেই তথ্য অনেক সময় সিস্টেমে থেকে যায়। আর সেই তথ্যই হারানো ফোন খুঁজতে বড় সহায়তা করে।
Google Find My Device কিভাবে সাহায্য করে?
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে Google Find My Device থাকলে এটি ফোনের শেষ লোকেশন সেভ করে রাখে। ধরুন, আপনার ফোন চুরি হলো বা কেউ ইচ্ছে করেই বন্ধ করে দিল। ফোন বন্ধ হওয়ার আগে যে স্থানে ছিল, সেটি Google-এর সিস্টেমে সেভ হয়ে যাবে।
এই সুবিধা পেতে হলে আপনার ফোনে:
- Google অ্যাকাউন্ট লগ ইন থাকা
- লোকেশন সার্ভিস চালু রাখা
- Find My Device সক্রিয় থাকা
এসব আগেই নিশ্চিত করে নিতে হবে। ফোন হারানোর মুহূর্তে কিছু করবার সুযোগ থাকে না, তাই আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
SIM সিগন্যালের মাধ্যমে লোকেশন বোঝা
অনেক সময় ফোন বন্ধ হওয়ার আগে কোন টাওয়ারে ফোনের সিগন্যাল ধরা পড়েছিল, সেই তথ্য অপারেটরের কাছে থাকে। যদিও এই তথ্য খুব নির্ভুল নয়, তবে আনুমানিক এলাকা বোঝা যায়।
যদি ফোনে আগে কোনও ট্র্যাকিং অ্যাপ ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তবে সেটিও শেষ লোকেশন সেভ করে রাখতে পারে।
অ্যান্টি-থেফট অ্যাপ কতটা কার্যকর?
বর্তমানে অনেক অ্যান্টি-থেফট অ্যাপ আছে যেগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করে এবং ফোন বন্ধ হওয়ার আগে লোকেশন সংরক্ষণ করে।
এগুলো ফোনের:
- শেষ লোকেশন
- ব্যাটারি শেষ হওয়ার আগের অবস্থা
- নেটওয়ার্ক পরিবর্তন
এসব তথ্য রেকর্ড করতে পারে। ফোন বন্ধ হলেও এগুলো কাজে আসে। তবে অবশ্যই বিশ্বস্ত অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে।
লোকেশন ট্র্যাকিং ঠিকভাবে কাজ করতে আগে যেসব সেটিংস করে রাখবেন
১. Google অ্যাকাউন্টে ফোন সিঙ্ক করে রাখুন।
২. লোকেশন সার্ভিস সবসময় অন রাখুন।
৩. Find My Device সক্রিয় আছে কিনা দেখে নিন।
৪. চাইলে একটি ভালো অ্যান্টি-থেফট অ্যাপ আগে থেকেই ইনস্টল করে নিন।
৫. ব্যাকগ্রাউন্ড পারমিশন সঠিকভাবে দিন।
এসব ছোট সেটিংসই পরে বড় কাজে লাগে।
অন্যের ফোন ট্র্যাক করা আইনসঙ্গত নয়
আপনার নিজের ফোন ছাড়া অন্য কারো মোবাইল ট্র্যাক করা ঠিক নয়। যেকোনো ধরনের লোকেশন ট্র্যাকিং করার আগে অনুমতি থাকা খুব জরুরি। গোপনীয়তার বিষয়টি সর্বদা মাথায় রাখুন।
উপসংহার
ফোন বন্ধ থাকা অবস্থায় তার নির্ভুল অবস্থান পাওয়া সম্ভব না হলেও, কিছু স্মার্ট প্রস্তুতি আগেই নিলে শেষ লোকেশন জানা যায়। আর সেই তথ্যই অনেক সময় হারানো মোবাইল ফিরে পেতে সাহায্য করে। Google Find My Device, SIM সিগন্যাল এবং বিশ্বস্ত অ্যান্টি-থেফট অ্যাপ—এই তিনটি মিলিয়ে একটি নিরাপদ ব্যবস্থা তৈরি করা যায়।
প্রস্তুতি যত ভালো হবে, ফোন হারালেও দুশ্চিন্তা তত কম হবে।













