ঝড়ের প্রভাবে দক্ষিণ ভারতে ফ্লাইট বাতিল, স্কুল বন্ধ, উপকূলে জারি সতর্কতা
শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস সৃষ্টি করে ঘূর্ণিঝড় Ditwah এখন দ্রুতগতিতে তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির দিকে এগোচ্ছে। সমুদ্রের উপর শক্তি সঞ্চয় করে এটি আরও শক্তিশালী হয়ে উপকূলে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। ঝড়ের প্রভাবে ইতিমধ্যেই দক্ষিণ ভারতে স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হতে শুরু করেছে।
শ্রীলঙ্কায় ব্যাপক ক্ষতি করে যাওয়া এই ঝড় এখনো শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে। দেশটির বিভিন্ন জেলায় ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে, রাস্তাঘাট জলে ডুবে গেছে, এবং বহু মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে না আসায় দেশটিতে উদ্ধার কাজ চলছেই।
ঝড়টি ভারতের উপকূলে পৌঁছানোর আশঙ্কায় তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির প্রশাসন জরুরি ব্যবস্থা নিয়েছে। চেন্নাইসহ বিভিন্ন বিমানবন্দরে বহু ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। যেসব যাত্রীর আজ বা আগামী কয়েকদিনে যাতায়াতের পরিকল্পনা ছিল, তাদের ট্রাভেল আপডেট চেক করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে বাচ্চাদের ঝুঁকিতে না পড়তে হয়।
সামুদ্রিক এলাকায় জোয়ারের মাত্রা বাড়তে পারে বলে উপকূলবর্তী অঞ্চলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জেলেদের সমুদ্রে না যাওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপকূলজুড়ে উদ্ধারকারী দল মোতায়েন রয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করা হয়েছে।
এদিকে, তামিলনাড়ুর বহু জায়গায় ইতিমধ্যেই ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বাতাসের গতি বেড়ে যাওয়ায় গাছ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হতে পারে—এমন সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে। শহরাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সম্ভাবনা থাকায় স্থানীয়দের অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, Ditwah স্থলে আঘাত হানার আগে তার গতি আরও বাড়াতে পারে। এর ফলে প্রবল দমকা হাওয়া, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভারী বৃষ্টি এবং উপকূলবর্তী এলাকায় জলোচ্ছ্বাস দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। প্রয়োজনীয় খাবার, পানীয় জল, ওষুধ, এবং টর্চ বা পাওয়ারব্যাংক সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঘরের বারান্দা বা ছাদে ভারী কিছু রাখলে তা নিচে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে, তাই এগুলো আগে থেকেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখতে বলা হয়েছে।
ঝড়ের সময় বাচ্চাদের বাইরে যেতে না দেওয়া, গাড়ি নিয়ে রাস্তায় না বের হওয়া এবং সমুদ্রের ধারে একদম না যাওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে। যদি প্রশাসন কোনো এলাকা খালি করার নির্দেশ দেয়, তা অবিলম্বে মেনে চলাই হবে সবচেয়ে নিরাপদ।
শ্রীলঙ্কায় Ditwah যে পরিমাণ ক্ষতি করেছে, তা দেখে বোঝা যায়—এই ঝড়কে এক মুহূর্তের জন্যও হালকা ভাবে নেওয়া যাবে না। সেই কারণেই ভারত আগেভাগে প্রস্তুতি নিয়েছে, যাতে উপকূলবর্তী মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে—প্রকৃতি কখনোই সময় দিয়ে সতর্ক করে না। তাই এই মুহূর্তে যা সবচেয়ে জরুরি, তা হলো সতর্কতা এবং দায়িত্বশীল আচরণ। প্রশাসনের নির্দেশ মানা, অযথা বাইরে না যাওয়া এবং নিজের পরিবারকে নিরাপদ রাখা—এসবই বড় বিপদ এড়াতে সাহায্য করবে।
ঝড়ের গতিপথ পরিবর্তন হতে পারে, শক্তি আরও বাড়তে পারে—তাই পরবর্তী আপডেটের দিকে নজর রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। আপাতত প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষ মিলে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
যে কোনো দুর্যোগের মতো, এবারও মনে রাখতে হবে—
সতর্কতা থাকলে বিপদ অনেকটাই কমানো সম্ভব।













