শীতের সময়টা আমাদের ত্বকের জন্য বেশ কঠিন হয়ে ওঠে। ঠান্ডা বাতাসে ত্বকের আর্দ্রতা কমে যায়, ফলে মুখে রুক্ষতা, হাত–পা ফাটা, আর ত্বক টান টান অনুভূত হওয়া খুবই সাধারণ ঘটনা। বড়দের সঙ্গে ছোটদেরও ঠিক একই সমস্যা হয়, বরং বাচ্চাদের কোমল ত্বক শীতে আরও বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। তাই শীত আসার আগেই সঠিক যত্ন শুরু করা খুব জরুরি।
এই সময়ে ত্বকের যত্ন নিতে খুব বেশি কিছু করার দরকার নেই—কেবল কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করলেই পরিবারের সব সদস্যের ত্বক নরম, মসৃণ ও উজ্জ্বল থাকবে। চলুন, একে একে সবগুলো উপায় জেনে নেওয়া যাক।
মুখের ত্বকের যত্ন (সবার জন্য)
১. দুধ আর মধুর মিশ্রণ
শীতে মুখে সবচেয়ে বেশি শুষ্কতা দেখা দেয়। কাঁচা দুধ আর মধু একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগালে ত্বক পরিষ্কারও থাকে, আবার নরমও হয়।
ব্যবহার:
২ চামচ দুধ
১ চামচ মধু
মিশিয়ে ১৫ মিনিট রাখুন, তারপর ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন করলে মুখে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরে আসে।
২. কলা–দইয়ের প্যাক
শুষ্ক ত্বকের জন্য এই প্যাক যেন যাদুর কাজ করে।
১/২টা কলা চটকে নিন
১ চামচ দই মিশিয়ে মুখে ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন
ত্বক তৎক্ষণাৎ মোলায়েম হয়ে যাবে।
৩. রাতে তেল ম্যাসাজ
শোবার আগে নারকেল বা বাদাম তেল মুখে ম্যাসাজ করলে ত্বক সারারাত আর্দ্র থাকে। বিশেষ করে পুরুষদের দাড়ির নিচে ত্বক খুব শুষ্ক হয়—এই উপায়টি তাদের জন্য দারুণ কাজ করে।
হাত–পায়ের যত্ন
১. গরম জলে লবণ দিয়ে হাত–পা ভিজানো
শীতকালে গোড়ালি ফাটার সমস্যা খুবই সাধারণ।
দিনে ১০ মিনিট গরম জলে সামান্য লবণ মিশিয়ে হাত–পা ডুবিয়ে রাখলে রুক্ষ ভাব চলে যায়।
২. গ্লিসারিন–গোলাপজল মিশ্রণ
এটি শীতের অন্যতম সেরা ময়েশ্চারাইজার।
১ চামচ গ্লিসারিন
১ চামচ গোলাপজল
ভালো করে মিশিয়ে হাত ও পায়ে লাগিয়ে ঘুমান। সকালে দেখবেন ত্বক নরম হয়ে গেছে।
৩. তিলের তেল
তিলের তেল শীতে ত্বকের জন্য খুব উপকারী।
হাতে–পায়ে ম্যাসাজ করলে ত্বক ফাটে না, বরং নরম থাকে।
মহিলাদের জন্য অতিরিক্ত টিপস
১. ওটস স্ক্রাব
ওটস সামান্য দুধে ভিজিয়ে মুখে ঘষে স্ক্রাব করলে মৃত কোষ দূর হয় এবং ত্বক উজ্জ্বল হয়।
২. ঠান্ডা অ্যালোভেরা জেল
ফ্রিজে রাখা অ্যালোভেরা জেল মুখে লাগালে র্যাশ, লালচেভাব কমে যায় এবং ত্বক সতেজ থাকে।
৩. ঘরে তৈরি লিপ বাম
নারকেল তেল ও সামান্য ভিটামিন–ই মিশিয়ে ফেলে ছোট কৌটায় রেখে দিন।
এটি ঠোঁট ফাটা রোধে দুর্দান্ত কাজ করে।
পুরুষদের জন্য কিছু বিশেষ যত্ন
১. দাড়ির নিচে তেল লাগানো
শীতে দাড়ির নিচে ত্বকে চুলকানি ও খুশকি হয়।
নারকেল বা বাদাম তেল কয়েক মিনিট ম্যাসাজ করলে এই সমস্যা কমে যায়।
২. শেভের পর অ্যালোভেরা
শেভ করার পর খুব সহজেই ত্বক শুকিয়ে যায়। অ্যালোভেরা জেল লাগালে ত্বক ঠান্ডা থাকে ও রুক্ষ হয় না।
বাচ্চাদের ত্বকের যত্ন
বাচ্চাদের ত্বক এতটাই কোমল যে শীতে একটু হাওয়া লাগলেই রুক্ষ হয়ে যায়। তাই সাবধানে যত্ন নিতে হবে।
১. গরম তেল মালিশ
সরষের তেল বা নারকেল তেল হালকা গরম করে বাচ্চার শরীরে ম্যাসাজ করুন।
এটি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়।
২. সাবান কম ব্যবহার
প্রতিদিন সাবান ব্যবহার করলে ত্বক আরও শুষ্ক হয়।
২–৩ দিন পর পর বাচ্চাদের বেবি সাবান ব্যবহার করাই ভালো।
৩. দুধ–মধু প্যাক
সপ্তাহে একদিন
২ চামচ দুধ
১ চামচ মধু
১০ মিনিট লাগিয়ে রেখে ধুয়ে দিন।
বাচ্চার ত্বক তুলোর মতো নরম থাকবে।
শীতে যে নিয়মগুলো মানতেই হবে
প্রচুর পানি পান করুন
খুব গরম পানি দিয়ে স্নান করবেন না
বাইরে গেলে সানস্ক্রিন লাগান
ঠোঁট আর্দ্র রাখুন
প্রতিদিন দু’বার ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন
শেষ কথা
শীতের রুক্ষতা আটকানো মোটেও কঠিন নয়। একটু যত্ন নিলেই পুরুষ, মহিলা বা বাচ্চা—সবাই খুব সহজেই নরম, উজ্জ্বল ও মোলায়েম ত্বক ধরে রাখতে পারে। ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো একদিকে নিরাপদ, অন্যদিকে সাশ্রয়ী—তাই শীতে ত্বকের যত্ন নেওয়া এখন আর ঝামেলার বিষয় নয়।
আপনি চাইলে আমি এ আর্টিকেলের জন্য ইংরেজি বা বাংলা শিরোনামও সাজেস্ট করে দিতে পারি।













