হাইওয়ে দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করলে একটি বিষয় পরিষ্কার—এখানে পরিস্থিতি মুহূর্তে বদলে যেতে পারে। কখনো গাড়ি নষ্ট হয়ে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে যেতে হতে পারে, কখনো আবার দুর্ঘটনা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় যাত্রী বা চালকের হঠাৎ অসুস্থতাও বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু সুখবর হলো, ভারত সরকার এবং ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি (NHAI) সাধারণ মানুষের জন্য বেশ কিছু জরুরি পরিষেবা চালু রেখেছে, যা যেকোনো সময় ব্যবহার করা যায়। অনেকেই এসব তথ্য জানেন না, তাই সমস্যায় পড়লে দেরি হয়ে যায়। এ কারণে আজকের পুরো লেখা শুধুই একটাই উদ্দেশ্যে—হাইওয়েতে বিপদে পড়লে কীভাবে সাহায্য পাওয়া যাবে।
জরুরি অবস্থায় সবচেয়ে দ্রুত সাহায্য পাওয়া যায় ‘112’-এ ফোন করলেই
ভারতের সব রাজ্যে এখন জরুরি পরিষেবাগুলোকে একত্র করে দেওয়া হয়েছে 112 নম্বরে।
অর্থাৎ—
পুলিশ
মেডিক্যাল
ফায়ার সার্ভিস
সবই এই এক নম্বর থেকেই পাওয়া যায়।
হাইওয়েতে কোনো দুর্ঘটনা হলে, কেউ আহত হলে, বা কোনো সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে পড়লে প্রথম কাজ হলো 112 নম্বরে কল করা।
আপনার
লোকেশন,
কী ঘটেছে
এবং কেমন সাহায্য দরকার
এই তথ্যগুলো দিলে কন্ট্রোল রুম কাছের ইউনিটকে সঙ্গে সঙ্গে পাঠিয়ে দেয়।
গাড়ি দুর্ঘটনা হলে কীভাবে সাহায্য পাবেন
হাইওয়েতে দুর্ঘটনার পর সাধারণ মানুষ সবচেয়ে আগে যে ভুলটি করেন তা হলো আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ি করা। এতে সময় নষ্ট হয়। এর বদলে—
নিজেকে শান্ত রাখুন
প্রথমেই 112-এ কল করুন
রাস্তার পাশে থাকা হাইওয়ে হেল্প নম্বর খুঁজে ঐ নম্বরে ফোন করতে পারেন
কাছাকাছি টোল প্লাজাকে খবর দিন—তাদের কাছে অ্যাম্বুলেন্স, ফার্স্ট এইড, সেফটি টিম সবই থাকে
আহত ব্যক্তিকে অযথা নড়াচড়া করানো যাবে না
হাইওয়ে অ্যাম্বুলেন্স “গোল্ডেন আওয়ার” নীতি অনুসরণ করে, অর্থাৎ যত দ্রুত সম্ভব ঘটনায় পৌঁছানোই তাদের প্রধান কাজ।
গাড়ি নষ্ট হলে কীভাবে উদ্ধার পাবেন
হাইওয়ের উপর গাড়ি নষ্ট হওয়া খুবই সাধারণ ঘটনা, কিন্তু বিপদ বাড়ে তখনই যখন রাস্তা ফাঁকা বা রাত গভীর হয়। এই অবস্থায়—
রাস্তার ধারে থাকা Emergency Call Box ব্যবহার করুন
অথবা ন্যাশনাল হাইওয়ের হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করুন
টোল প্লাজা কন্ট্রোল রুমে খবর দিলে তারা রেসকিউ ভ্যান পাঠায়
এই রেসকিউ টিম সাধারণত—
✔ টায়ার বদলে দেয়
✔ টো-ভ্যান পাঠায়
✔ ব্যাটারি বা ইঞ্জিনের ছোটখাটো সমস্যা ঠিক করে
✔ যাত্রীদের নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দেয়
প্রস্তুত টিম থাকায় সাধারণত বেশি অপেক্ষা করতে হয় না।
হঠাৎ শরীর খারাপ হলে কীভাবে চিকিৎসা পাওয়া যাবে
দীর্ঘ সময় গাড়ি চালালে মাথা ঘোরা, বমি, বুক ধড়ফড় করার মতো সমস্যা হতে পারে। আবার মাঝপথে যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়াও অস্বাভাবিক নয়।
এক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা পেতে—
112-এ মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি জানান
নিকটস্থ টোল গেটে পৌঁছালে আরও দ্রুত সাহায্য পাওয়া যায়
হাইওয়ে অ্যাম্বুলেন্স রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতালে পৌঁছে দেয়
অনেক হাইওয়েতে ছোটখাটো স্বাস্থ্যকেন্দ্রও থাকে যেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
টোল প্লাজা শুধু টোল নেওয়ার জায়গা নয়—এটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা পয়েন্ট
অনেকে জানেনই না যে প্রতিটি টোল প্লাজায় রয়েছে—
মেডিক্যাল কিট
স্ট্রেচার
রেসকিউ টিম
ফায়ার সেফটি যন্ত্র
নিয়মিত অ্যাম্বুলেন্স
কন্ট্রোল রুম
এরা দুর্ঘটনা বা হঠাৎ সমস্যায় মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে সাহায্য পাঠাতে পারে।
হাইওয়ে সুরক্ষায় কিছু জরুরি পরামর্শ
✔ হেলমেট ও সিটবেল্ট বাধ্যতামূলক
✔ নির্দেশিত স্পিড লিমিট মেনে চলুন
✔ ভারী ঘুম আসলে গাড়ি থামিয়ে বিশ্রাম নিন
✔ রাস্তার পাশে দাঁড়ালে হ্যাজার্ড লাইট জ্বালিয়ে রাখুন
✔ রাতে ড্রাইভ করলে হাইবিম কম ব্যবহার করুন
শেষ কথা
হাইওয়ে দিয়ে যাত্রা করা মানেই ঝুঁকি। তবে আধুনিক জরুরি পরিষেবাগুলো থাকায় এখন বিপদে পড়লে সাধারণ মানুষ আগের তুলনায় অনেক দ্রুত সাহায্য পেতে পারে। শুধু জানা দরকার—কার কাছে, কখন এবং কীভাবে সাহায্য চাইতে হয়।
মনে রাখবেন, হাইওয়েতে বিপদে পড়লে 112 আপনার প্রথম ও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ভরসা।
একটি ফোন কল কখনও কখনও জীবনও বাঁচিয়ে দিতে পারে।













