আজকের দিনে আইফোনের জনপ্রিয়তা এমন এক জায়গায় পৌঁছেছে যে অনেকেই স্বপ্ন দেখেন একটা আইফোন ব্যবহার করার। আর সেই সুযোগটাই কাজে লাগাচ্ছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। সাধারণ অ্যান্ড্রয়েড ফোনে অ্যাপলের লোগো লাগিয়ে বা হুবহু আইফোনের মতো কভার ব্যবহার করে তারা ১০–১২ হাজার টাকায় “আইফোন” বলে বিক্রি করছে। অনেক মানুষ সত্যি ভেবে কিনে ফেলছেন, পরে বুঝতে পারছেন ফোনটি নকল।
আপনিও যাতে এমন প্রতারণার শিকার না হন, তাই খুব সহজ ভাষায় জানিয়ে দিচ্ছি—আইফোন কিনতে গেলে কোন কোন জিনিস দেখে নিশ্চিত হবেন।
১. ফোনে iOS আছে নাকি অ্যান্ড্রয়েড—এটাই প্রথম পরীক্ষা
আইফোন মানেই iOS অপারেটিং সিস্টেম। এখানে কখনোই অ্যান্ড্রয়েডের সেটিংস, গুগল প্লে স্টোর বা অ্যান্ড্রয়েডের আইকন দেখতে পাবেন না।
ফোনটি অন করার পর এক নজরে দেখুন—
App Store আছে কি না
Settings কি অ্যাপলের মত সাজানো
Google Play Store দেখা যাচ্ছে কি না
যদি প্লে স্টোর দেখা যায়—ফোনটি নিশ্চিতভাবেই নকল।
২. আইফোনের ব্যাক কভার খোলা যায় না
আসল আইফোনে ব্যাক কভার খোলা যায় না এবং ব্যাটারি বের করা অসম্ভব।
যদি ব্যাক কভার খুলে যায় বা ব্যাটারি দেখা যায়—
👉 নিশ্চিত বুঝবেন এটা সস্তা অ্যান্ড্রয়েড ফোন যেটাকে আইফোন বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
৩. IMEI ও বিস্তারিত তথ্য চেক করা খুব জরুরি
ফোন হাতে পাওয়ার পর যান—
Settings → General → About
এখানে আপনি:
Model Number
Serial Number
IMEI
সব দেখতে পাবেন।
এই নম্বরগুলো অফিসিয়াল অ্যাপল ডিভাইস চেক পেজে দিলে ফোনটি আসল নাকি নকল, পাবে সাথে সাথেই জানা যায়।
যদি নম্বর না মেলে বা ভুল দেখায় → ফোনটি ভুয়ো।
৪. ফোনের ওজন, ফিনিশ ও লোগো খুঁটিয়ে দেখুন
নকল আইফোনে সাধারণত—
লোগো একটু বেঁকে থাকে
বডির গুণগত মান খুব সস্তা
ওজন অস্বাভাবিক কম
কভার খুব পাতলা বা প্লাস্টিকের মত
অন্যদিকে আসল আইফোন হাতে নিলেই প্রিমিয়াম ফিল আসে।
৫. ক্যামেরা খুলে ছবি তুলেই অনেক কিছু বোঝা যায়
আইফোনের ক্যামেরা মানেই শার্প ডিটেইল, ন্যাচারাল কালার, আর দুর্দান্ত লো লাইট পারফরম্যান্স।
নকল ফোনে—
রঙ খুব ফ্যাকাসে
ছবি নিলে দেরি হয়
নাইট মোড সঠিক কাজ করে না
সুতরাং ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলেই আপনি অর্ধেকটা নিশ্চিত হতে পারবেন।
৬. আসল আইফোনে ডিফল্ট অ্যাপ থাকে যেগুলো নকল ফোনে থাকে না
যেমন—
Safari
iMessage
FaceTime
Wallet
Photos
নকল ফোনে এদের জায়গায় আজব অ্যাপ বা অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ পাওয়া যায়।
৭. অস্বাভাবিক কম দাম দেখলেই সতর্ক হোন
আইফোন কখনোই ১০–১২ হাজার টাকায় পাওয়া যায় না।
দাম যদি বাজার দামের চেয়ে অবিশ্বাস্যভাবে কম হয় —
👉 বুঝে নিন, সামনে বড় ধোকা।
Conclusion
আইফোন কেনার সময় একটু সতর্ক থাকলে সহজেই প্রতারণা থেকে নিজেকে বাঁচানো যায়। ফোনের সেটিংস, iOS, IMEI নম্বর, ক্যামেরা, ওজন—এই কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখলেই আপনি আসল আইফোন ও নকল ফোনের পার্থক্য সহজেই বুঝে যাবেন।
মনে রাখবেন, আইফোন কিনবেন সবসময় শুধু বিশ্বস্ত দোকান বা অফিসিয়াল রিটেইলার থেকে। কারণ কয়েক মুহূর্ত অসাবধান থাকলে আপনার কষ্টার্জিত টাকাই নষ্ট হয়ে যেতে পারে।













