মোদী–পুতিনের দিল্লি সফরে এক অদ্ভুত কিন্তু অত্যন্ত বার্তাবহ মুহূর্ত নজর কাড়ল পুরো বিশ্বের। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারতের মাটিতে নামতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে এয়ারপোর্টে গিয়ে তাকে স্বাগত জানান। আর তারপর দু’জনকে একই গাড়িতে পাশাপাশি বসে বের হতে দেখা যায়—যা কূটনীতির ভাষায় বিরল এবং বিশেষ একটি ইঙ্গিত।
সাধারণত বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের জন্য আলাদা নিরাপত্তা, আলাদা প্রোটোকল এবং আলাদা যাতায়াতের ব্যবস্থা থাকে। কিন্তু এই সফরে ভারত যে উষ্ণতা দেখাল, তা শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়—বরং দুই দেশের সম্পর্কের এক নতুন আস্থা ও বন্ধুত্বের চিহ্ন হিসেবে ধরা হচ্ছে। বিশেষ করে যখন রাশিয়া বিশ্ব রাজনৈতিক চাপের মুখে, তখন ভারতের এই মনোভাব আন্তর্জাতিক মহলে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে ভারত নিজের কূটনৈতিক পথ নিজেই ঠিক করে।
এভাবে এক গাড়িতে যাত্রা করা দুই শীর্ষ নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্কের উষ্ণতার প্রতীক। বহু বছর ধরে ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ, এবং এই মুহূর্ত সেই সম্পর্ককে আরও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। পুতিনও মোদীর সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ ভঙ্গিতে গাড়িতে ওঠেন, যা এই সফরের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
এই সফরে দুই দেশের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে জ্বালানি, প্রতিরক্ষা এবং কূটনৈতিক সহযোগিতা। ভারত দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়া থেকে সস্তায় তেল কিনছে, এবং এই নীতি বাজারে জ্বালানির দাম ধরে রাখতে সাহায্য করছে। আগামী বৈঠকে এই চুক্তিগুলো আরও সম্প্রসারিত হতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। পাশাপাশি প্রতিরক্ষাক্ষেত্রে যৌথ উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।
ভারতের সাধারণ মানুষের কাছে এই সফরের গুরুত্ব অনেক। রাশিয়া–ভারত জ্বালানি সহযোগিতা চলতে থাকলে দেশের খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুবিধা হয়। প্রতিরক্ষায় নতুন চুক্তি হলে দেশের শিল্পে কর্মসংস্থানও বাড়তে পারে। আর আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্যে ভারতের অবস্থান আরও শক্ত হয়।
দিল্লির এয়ারপোর্টে মোদী–পুতিনের এক গাড়িতে যাত্রার সেই ছোট্ট দৃশ্যটি তাই শুধু আনুষ্ঠানিক নয়—এটা আসলে রাজনৈতিক বার্তা, কৌশলগত সম্পর্ক ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনার এক দৃঢ় প্রতিচ্ছবি। বন্ধুত্ব, বিশ্বাস আর নীতিগত দৃঢ়তার মিলিত ছবি তৈরি করল সেই মুহূর্তটি, যা ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।













