ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ঘরে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহ দিতে চালু করেছে National Portal for Rooftop Solar। এই পোর্টালের মাধ্যমে যে কেউ নিজের বাড়িতে সোলার সিস্টেম বসিয়ে সরকারি ভর্তুকি, কম বিদ্যুৎ বিল এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী সাশ্রয় পেতে পারেন। অনেকেই ভাবেন—“আবেদন কীভাবে করব?” বা “সোলার লাগালে সত্যি কি বিল কমবে?”—এই লেখায় সবকিছু খুব সহজ ভাষায় পরিষ্কারভাবে জানানো হলো।
কীভাবে আবেদন করবেন — সাধারণ মানুষের জন্য ধাপে ধাপে নির্দেশিকা
- পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন
প্রথমে National Portal for Rooftop Solar-এর ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার মোবাইল নম্বর দিয়ে একটি সহজ অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। OTP দিয়ে ভেরিফাই করলেই রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন। - বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগের তথ্য দিন
আপনার নাম, ঠিকানা, রাজ্য, ডিসকম কনজিউমার নম্বর—এই মৌলিক তথ্যগুলো দিতে হবে। এতে বুঝে নেওয়া হয় আপনার বাড়ি কোন বিদ্যুৎ সংস্থার আওতায়। - অনুমোদিত (empanelled) ভেন্ডর বেছে নিন
সরকারি তালিকাভুক্ত ভেন্ডরদের মধ্যে যে কাউকে নির্বাচন করতে পারেন। এরা সঠিক মানের প্যানেল, ইনভার্টার, তারসহ প্রয়োজনীয় সব সার্টিফিকেশনসহ কাজ করে। - ডকুমেন্ট আপলোড ও ডিসকম অনুমোদন
কয়েকটি সাধারণ নথি আপলোড করলেই ডিসকম আপনার আবেদন যাচাই করে অনুমোদন দেয়। অনুমোদনের পরে ভেন্ডর ইনস্টলেশন শুরু করে। - ইনস্টলেশন শেষ হলে ভর্তুকি (subsidy)
সিস্টেম বসানোর পর চূড়ান্ত পরিদর্শন হয়। সব ঠিক থাকলে সরকারি ভর্তুকি আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়।
মাসে কত টাকা সাশ্রয় হতে পারে — সহজ ভাষায় হিসাব
সৌর প্যানেল দিনে যতটা বিদ্যুৎ তৈরি করবে, তার ওপর আপনার সাশ্রয় নির্ভর করে। সাধারণ হিসাব অনুযায়ী:
- 1 kW সোলার সিস্টেম
প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩.৫–৪ ইউনিট বিদ্যুৎ তৈরি করে।
মাসে হয় প্রায় ১০০–১২০ ইউনিট।
ধরুন আপনার এলাকায় ১ ইউনিট বিদ্যুতের দাম ₹৮—
➡ ১ kW সিস্টেমে মাসিক সাশ্রয়:
১০০ × ₹৮ = ₹৮০০–₹৯৬০ (মাসে)
➡ ৩ kW সিস্টেমে মাসিক সাশ্রয়:
প্রায় ₹২,৪০০–₹২,৮০০ (মাসে)
অবশ্যই আপনার এলাকা, ছাদের দিক, ছায়া, আবহাওয়া—সব মিলিয়ে উৎপাদন একটু কম-বেশি হতে পারে। তবে সাধারণত হিসাব এর কাছাকাছি থাকে।
সোলার লাগালে বিদ্যুৎ বিল কমবে নাকি বাড়বে? — বাস্তব অভিজ্ঞতা কী বলে
বিল কমবে — কারণগুলো
- দিনের বেশিরভাগ সময় আপনার যন্ত্রপাতি সোলারের তৈরি বিদ্যুতে চলবে।
- গ্রিড থেকে কম বিদ্যুৎ নিলে স্বাভাবিকভাবেই বিল কমবে।
- নেট-মিটারিং থাকলে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে দিয়ে ক্রেডিটও পাওয়া যায়।
- ভর্তুকির কারণে ইনস্টলেশনের খরচও অনেকটাই কমে যায়।
কখন বিল বাড়তে পারে?
- যদি প্যানেলের সক্ষমতা আপনার ব্যবহারের তুলনায় খুব কম হয়।
- সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ না থাকলে উৎপাদন কমে যেতে পারে।
- ভুল ভেন্ডর বেছে নিলে খরচ বেশি পড়ে যেতে পারে।
সাধারণভাবে কলকাতা, ঢাকা, শিলিগুড়ি, আসাম, পাটনা—এই অঞ্চলে যাদের মাসিক ব্যবহার ১০০–৩০০ ইউনিট, তাদের ক্ষেত্রে সোলার বসালে বিল ৫০–৮০% পর্যন্ত কমে যায়।
Conclusion
রুফটপ সোলার কেবল পরিবেশবান্ধব নয়—বরং দীর্ঘমেয়াদে পরিবারের মাসিক খরচ কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়। National Portal for Rooftop Solar আবেদন প্রক্রিয়াকে একদম সহজ করে দিয়েছে। মাত্র কয়েকটি ধাপ পেরোলেই আপনার ছাদে লাগবে সোলার প্যানেল, আর কয়েক মাসের মধ্যেই বুঝে যাবেন—আপনার বিদ্যুৎ বিল সত্যিই কতটা কমছে।













