ম্যানচেস্টার সিটি প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের শক্তির পরিচয় আবারও তুলে ধরল সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জিতে। শুরুর মিনিট থেকেই সিটির খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস ও গতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আর এই জয়ের ফলে শীর্ষ দৌড়ে তাদের অবস্থান আরও শক্ত হলো।
ম্যাচের ৩১ মিনিটে রুবেন দিয়াসের অসাধারণ দূরপাল্লার শটেই সিটির গোল সূচনা হয়। ডিফেন্ডার হয়েও তার শটে যে নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ ও শক্তি দেখা গেছে, তা দর্শকদের তাক লাগিয়ে দেয়। গোলরক্ষক কোনোভাবেই বলের গতিপথ বুঝে উঠতে পারেননি।
এর মাত্র কয়েক মিনিট পরই কর্নার থেকে হেড করে গোল করেন জোশকো গার্দিওল। ফিল ফোডেনের নিখুঁত ক্রস থেকে উঠে আসা সেই হেড সান্ডারল্যান্ডের ডিফেন্সকে পুরোপুরি বিভ্রান্ত করে দেয়। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই দুই গোলে এগিয়ে গিয়ে সিটির আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের মোড় আরও স্পষ্ট হয়। ৬৫ মিনিটে ফোডেন সিটির তৃতীয় গোলটি করেন। রায়ান চেরকির দৃষ্টিনন্দন ‘রাবোনা’ ক্রস থেকে মাথা ছুঁয়ে জালে জড়ানো সেই গোলটি ছিল নিখুঁত শিল্পকর্মের মতো। চেরকির ওই মুহূর্ত মাঠে উপস্থিত দর্শকদের দাঁড় করিয়ে দিতে বাধ্য করে।
ম্যাচজুড়ে বল দখল ও আক্রমণে সিটির আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। সান্ডারল্যান্ড রক্ষণাত্মক ফরমেশনে খেললেও সিটির গতি, পাসিং ও কৌশল তাদের বারবার নড়বড়ে করে দেয়। সুযোগ পেলেও সান্ডারল্যান্ডের ফরোয়ার্ডরা গোলের সামনে দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেছে।
শেষ পর্যায়ে সান্ডারল্যান্ড আরও বিপাকে পড়ে। লুক ও’নিয়েন বিপজ্জনক ট্যাকলের জন্য লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন, ফলে দশজন নিয়েই ম্যাচ শেষ করতে বাধ্য হয় তারা। এতে তাদের প্রতিরোধ আরও ভেঙে পড়ে এবং সিটি কোনো চাপ ছাড়াই ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করে রাখে।
এই জয়ের ফলে ম্যানচেস্টার সিটি লিগ টেবিলের শীর্ষের খুব কাছাকাছি উঠে এসেছে। অন্যদিকে সান্ডারল্যান্ডের অবস্থান আরও পিছিয়ে গেল। ফোডেন ও চেরকির পারফরম্যান্স দেখেই বোঝা যাচ্ছে, সিটির ভবিষ্যৎ আক্রমণভাগ আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছে।













