
Massive Risk for Netflix If the Warner Deal Fails,Source official website
নেটফ্লিক্স ও ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি (ডব্লিউবিডি)-র সম্ভাব্য মেগা চুক্তিকে ঘিরে বিনোদন দুনিয়ায় তুমুল আলোচনা চলছে। স্ট্রিমিং বাজারে আধিপত্য বাড়াতে নেটফ্লিক্স দীর্ঘদিন ধরেই বড় কোনও অধিগ্রহণের সুযোগ খুঁজছিল। সেই প্রেক্ষিতে ডব্লিউবিডি-র বিশাল লাইব্রেরি ও বহুমুখী কনটেন্ট তাদের সামনে দুর্দান্ত সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে এই চুক্তি যেমন বড়, ঝুঁকিও তেমনই বিশাল—এবং সেই ঝুঁকির মাপ বোঝাতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে এক বিপুল অর্থের ‘ব্রেকআপ ফি’।
যদি কোনও কারণে চুক্তিটি বাস্তবায়িত না হয় বা আইনগত অনুমোদন আটকে যায়, তাহলে নেটফ্লিক্সকে প্রায় ৫.৮ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে। বৈশ্বিক কর্পোরেট ইতিহাসে এত বড় ব্রেকআপ ফি খুবই বিরল। সাধারণত এমন ডিল বাতিল হলে যে অঙ্কের অর্থ দিতে হয়, তার তুলনায় এটি কয়েকগুণ বেশি। ফলে স্পষ্ট, নেটফ্লিক্স এই মিশনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং ব্যর্থতাকে তারা সহজভাবে নিতে নারাজ।
তবে দায় শুধু নেটফ্লিক্সের নয়। বিপরীত দিক থেকেও রয়েছে বড় অঙ্গীকার। যদি ডব্লিউবিডি নিজেদের পক্ষ থেকে চুক্তি ভাঙতে বাধ্য হয় বা শেয়ারহোল্ডাররা অনুমোদন না দেয়, তাহলে তাদেরকেও প্রায় ২.৮ বিলিয়ন ডলারের রিভার্স ব্রেকআপ ফি পরিশোধ করতে হবে। এত বড় আর্থিক প্রতিশ্রুতি উভয় কোম্পানির প্রত্যয়কে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এত বড় আর্থিক দায় যুক্ত হওয়ার পেছনে মূল কারণ প্রতিযোগিতা ও বাজার দখলের লড়াই। একদিকে নেটফ্লিক্স চায় নিজের গ্রোথকে নতুন গতি দিতে, অন্যদিকে ডব্লিউবিডি নানা আর্থিক চাপে থাকা সত্ত্বেও নিজেদের ব্র্যান্ড মূল্য বজায় রাখতে চাইছে। এই প্রয়াসে দুই পক্ষের স্বার্থ এক জায়গায় মিললেও, ঝুঁকির মাত্রা এতটাই বড় যে উভয়েই সতর্কভাবে এগোচ্ছে।
চুক্তির সাফল্যের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে অ্যান্টিট্রাস্ট বা প্রতিযোগিতা আইন সম্পর্কিত জটিলতা। এত বড় পরিসরের একীকরণ বাজারে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি করতে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখবে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থা। অতীতে বহু চুক্তি এই পর্যায়ে আটকে গেছে—তাই এবারের ডিল নিয়েও অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
তবে শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, যদি চুক্তিটি সফল হয়, তাহলে বিশ্বব্যাপী বিনোদন বাজারের চেহারাই বদলে যেতে পারে। নেটফ্লিক্সের বিপুল ভিউয়ারশিপ এবং ডব্লিউবিডি-র সমৃদ্ধ কনটেন্ট ভাণ্ডার—এই দুইয়ের সংযোগ স্ট্রিমিং ইকোসিস্টেমে নতুন শক্তি তৈরি করবে। এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বী স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপরও এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।
ফলে এখন চোখ শুধুই ভবিষ্যতের দিকে। চুক্তি সফল হোক বা ব্যর্থ—উভয় ক্ষেত্রেই বিনোদন শিল্পের ওপর এর প্রভাব গভীর হবে। কারণ এই ডিল শুধু দুই কোম্পানির ব্যবসার হিসাবই বদলাবে না, বদলে দিতে পারে দর্শকদের বিনোদনের অভ্যাসও।













