
Government Clarifies Timeline for 8th Pay Commission Report,Source official website
কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে বহুদিন ধরেই ৮ম পে কমিশন নিয়ে প্রত্যাশা বাড়ছিল। অবশেষে সরকারের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে যে কমিশনের কাজ শুরুর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়সীমাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে বেতন কাঠামো ও পেনশনের সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, ৮ম পে কমিশনকে সুপারিশ তৈরির জন্য ১৮ মাস সময় দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ কমিশন আগামী দেড় বছরের মধ্যে তাদের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দেবে। তবে সুপারিশ অনুযায়ী বেতন বা পেনশন সংশোধন কখন কার্যকর হবে, সেই তারিখ নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। এই বিষয়টি সরকারের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে বলে পরিষ্কার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
অনেকেই ভেবেছিলেন, পূর্বের প্রথা অনুযায়ী ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকেই হয়তো নতুন বেতন কাঠামো চালু হতে পারে। কিন্তু সংসদে সরকারের বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, বাস্তবায়নের তারিখ নিয়ে এখনই নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই। সরকার ভবিষ্যৎ আর্থিক পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
বাজেট ২০২৬-২৭-এ এই পে কমিশনের বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হবে কিনা, তাও ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। সরকারি পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কমিশনের সুপারিশ সরকার যেগুলো গ্রহণ করবে, সেগুলি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হবে। ফলে কর্মচারীদের আশা, বাজেটে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে।
৮ম পে কমিশনের সিদ্ধান্ত সরাসরি প্রভাব ফেলবে দেশের প্রায় ৫০ লক্ষেরও বেশি কেন্দ্রীয় কর্মচারী ও ৬৯ লক্ষের কাছাকাছি পেনশনভোগীর ওপর। বেতন কাঠামো, পেনশন, অ্যালাউন্স—সব ক্ষেত্রেই সম্ভাব্য পরিবর্তন আগামী দিনে আর্থিক স্বস্তি এনে দিতে পারে। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা ও উত্তেজনা দুটোই বাড়ছে।
পূর্ববর্তী পে কমিশনগুলোর অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, সুপারিশ জমা পড়ার পরে তা কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগে এবং প্রয়োজনে বকেয়া হিসেবেও পরিশোধ করা হয়। এবারও অনেকে আশা করছেন, একই ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতে পারে, যদি সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।
সব মিলিয়ে, ৮ম পে কমিশনের বাস্তবায়ন এখনো অপেক্ষার পর্যায়ে থাকলেও কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে আশাবাদ স্পষ্ট। সরকারের আর্থিক নীতি, রাজস্ব আয় ও ব্যয়ের চাপ—সবকিছু বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—এই কমিশনের প্রভাব আগামী কয়েক বছরে দেশজুড়ে সরকারি কর্মীদের আর্থিক ভবিষ্যতকে উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে দিতে পারে।













