
US May Impose Tariffs on Indian Rice: Trump’s Fresh Warning,(NARINDER NANU/AFP/Getty Images)
টানা কয়েক মাস ধরে বাণিজ্য নীতিতে কড়াকড়ি বার্তা দেওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার ভারতের চাল রপ্তানি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, ভারত কম দামে বিপুল পরিমাণ চাল রপ্তানি করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় কৃষকদের বাজারে চাপে ফেলছে। ফলে প্রয়োজন হলে নতুন শুল্ক আরোপ করা হবে—এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অঙ্গনে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ট্রাম্পের বক্তব্য মূলত দেশীয় কৃষক মহলের চাপ থেকে উৎসারিত। যুক্তরাষ্ট্রে বেশ কিছু কৃষক সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ জানাচ্ছে যে, ভারতীয় চাল তুলনামূলক কম দামে বাজারে ঢুকে আমেরিকান উৎপাদকদের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন এবং প্রয়োজনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্য বাজারে বেশ বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ভারতের শীর্ষ চাল রপ্তানিকারক কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারদরে তীব্র ধাক্কা লাগে। একাধিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের মূল্য একদিনেই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে শুল্ক আরোপ করে, তাহলে ভারতীয় রপ্তানির উপর সাময়িক চাপ তৈরি হতে পারে।
যদিও বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, ভারতীয় রপ্তানি খাত বিষয়টিকে দীর্ঘমেয়াদে বড় সমস্যা হিসেবে দেখছে না। রপ্তানিকারীদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের চাল রপ্তানির খুব ক্ষুদ্র অংশ। ফলে মার্কিন শুল্ক আরোপ করা হলেও সামগ্রিক রপ্তানি প্রবাহ ততটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। ভারতীয় চালের প্রধান বাজার মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া—যেখানে চাহিদা স্থিতিশীল।
ভারতের রপ্তানিকারীরা আরও মনে করেন, ভারতীয় চালের দাম, গুণমান এবং উৎপাদন ক্ষমতা বিশ্ববাজারে এখনো প্রতিযোগিতামূলক। ফলে একটি দেশের বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তে পুরো খাতের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই। তাছাড়া বাজার বৈচিত্র্যকরণ ভারতীয় রপ্তানিকে অতিরিক্ত সুরক্ষা দিচ্ছে।
বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান মূলত রাজনৈতিক। দেশটির অভ্যন্তরীণ কৃষক ভোটব্যাঙ্ককে খুশি রাখতে কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। তাই এই শুল্ক হুমকি হয়তো মূলত নির্বাচনী কৌশলেরই অংশ, বাস্তবে কার্যকর করলে তা মার্কিন আমদানিকারকদেরও ব্যয় বাড়াতে পারে।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি যদিও উদ্বেগের, তবে ভারতীয় চাল রপ্তানি খাত দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, বিশ্ববাজারে তাদের অবস্থান স্থায়ী এবং শক্তিশালী। যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন শুল্ক আরোপও করে, তবু বিকল্প বাজার এবং ভারতের উৎপাদন সুবিধা শিল্পকে টিকে থাকতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। ভারতের রপ্তানিকারীরা তাই ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী।













