
ICC Hunts New Media Partner as JioStar Plans Exit,Source official website
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (ICC) মিডিয়া রাইটস নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি সম্প্রচার চুক্তি সত্ত্বেও JioStar হঠাৎই এই সমঝোতা থেকে সরে আসার পরিকল্পনা করছে। সংস্থাটি জানায়, সাম্প্রতিক আর্থিক ক্ষতির কারণে এই ব্যয়বহুল রাইটস ধরে রাখা তাদের পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ২০২৪ থেকে ২০২৭ মেয়াদের গুরুত্বপূর্ণ খেলাগুলোর সম্প্রচার অধিকার আবারও ঝুলে গেল।
JioStar–এর এই সিদ্ধান্ত দ্রুতই ক্রিকেট বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। আগামী T20 বিশ্বকাপসহ বেশ কিছু বড় প্রতিযোগিতার সম্প্রচার নিয়ে এখন ICC উদ্বিগ্ন। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই কোনো প্রতিষ্ঠানের পিছু হটা সাধারণ বিষয় নয়, তাই এই ঘটনাকে শিল্প বিশেষজ্ঞরা বড় সংকেত হিসেবে দেখছেন।
এরমধ্যেই ICC নতুন সম্প্রচার সহযোগী খোঁজা শুরু করেছে। সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে কয়েকটি আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় সংস্থা বিবেচনায় এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছে জনপ্রিয় টেলিভিশন নেটওয়ার্ক ও বড় OTT প্ল্যাটফর্ম—যারা স্পোর্টস কনটেন্টে সম্প্রতি বড় বিনিয়োগ করছে। তবে অস্বাভাবিক উচ্চ মূল্যের কারণে এখনো কেউ চুক্তিতে আগ্রহ দেখায়নি।
সমস্যা বাড়িয়েছে বিজ্ঞাপন শিল্পের নতুন পরিস্থিতি। কিছু সেক্টরের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ হওয়ায় সম্প্রচারকারীদের প্রধান আয়ের উৎস উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিশেষত লাইভ স্পোর্টসের মতো ব্যয়বহুল কনটেন্টের ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনই ছিল প্রধান ভরসা। নতুন পরিবেশে রাইটস কেনা এতটা লাভজনক না হওয়ায় অনেক সংস্থা ঝুঁকি নিতে চাইছে না।
JioStar–এর আর্থিক রিপোর্টে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংস্থাটি বিপুল পরিমাণ ক্ষতির দায়ভার জমা করেছে। স্পোর্টস রাইটস, প্রযুক্তিগত ব্যয় এবং সাবস্ক্রিপশন বাজারের অস্থিরতা মিলিয়ে তাদের মোট চাপ দ্রুতই বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি পুরো মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রির কাঠামোগত পরিবর্তনেরই প্রতিফলন।
যদি ICC বিকল্প সম্প্রচার পার্টনার না পায়, তাহলে JioStar–কে চুক্তি অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য করা হতে পারে। তবে বাস্তবে তা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বাজারের যেভাবে পরিবর্তন হচ্ছে, তাতে ভবিষ্যতের ক্রীড়া সম্প্রচার খরচ কি কমবে, নাকি আরও বাড়বে—সেটাই এখন বড় আলোচনার বিষয়।
এই পরিস্থিতির প্রভাব সরাসরি দর্শকদের ওপরও পড়তে পারে। নতুন চ্যানেল বা প্ল্যাটফর্ম রাইটস পেলে সম্প্রচার পদ্ধতি, সাবস্ক্রিপশন এবং অ্যাক্সেসেও পরিবর্তন আসতে পারে। ক্রিকেটপ্রেমীরা তাই নজর রাখছেন, কে শেষ পর্যন্ত এই চুক্তির দায়িত্ব নেবে এবং ভবিষ্যতে তারা কত সহজে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দেখতে পারবেন।













