যে ত্যাগে বদলে গেল সচিন তেন্ডুলকরের ভবিষ্যৎ | When Gursharan Singh Played With a Broken Hand to Help Sachin Tendulkar

When Gursharan Singh Played With a Broken Hand to Help Sachin Tendulkar

When Gursharan Singh Played With a Broken Hand to Help Sachin Tendulkar,Source official website

১৯৮৯-৯০ মরসুমের ইরানি কাপে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে আবারও সামনে এনে ক্রিকেট জগতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন সচিন তেন্ডুলকর। ভারতীয় ক্রিকেটের এই আইকনিক ব্যাটসম্যান স্মরণ করেছেন সেই দিনটির কথা, যেদিন তাঁর শতরান অসম্ভব বলে মনে হলেও একজন সতীর্থের সাহসী সিদ্ধান্ত সবকিছু বদলে দিয়েছিল। সেই মানুষটি হলেন গুরশরণ সিং, যিনি ভাঙা হাত নিয়েও মাঠে নেমেছিলেন শুধুমাত্র সচিনকে শতকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

ম্যাচের পরিস্থিতি তখন অত্যন্ত জটিল। রেস্ট অব ইন্ডিয়ার ইনিংস ধুঁকছিল, স্কোরবোর্ডে ভরসা করার মতো কিছুই ছিল না। নয় উইকেট পড়ে যাওয়ার পর দলে আর কেবল একজন ব্যাটার বাকি—গুরশরণ সিং। অথচ তাঁর হাতের প্লাস্টার তখনও শক্ত হয়ে আছে, চোট এমন যে সাধারণ অবস্থায় অনুশীলন করাই কঠিন। কিন্তু সতীর্থ সচিন তখন নব্বইয়ের কোঠায়, আর সেই রানটাই তাঁর ভবিষ্যতের পথ নির্ধারণ করবে—এটাই গুরশরণকে এগিয়ে যেতে প্রেরণা দেয়।

দলীয় ড্রেসিং রুমে তখন হতাশার ছায়া। অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন ম্যাচ শেষ। কিন্তু সকলকে চমকে দিয়ে গুরশরণ শান্তভাবেই প্যাড পরে প্রস্তুত হতে শুরু করেন। সতীর্থরা তাঁকে থামানোর চেষ্টা করলেও তিনি জানিয়ে দেন—সচিনের স্বপ্ন পূরণ না করে তিনি বিশ্রামে ফিরবেন না। সেই মুহূর্তে তাঁর দৃঢ় মনোভাব দলের প্রতি এক অদম্য দায়বদ্ধতার পরিচয় দেয়, যা আজও ক্রিকেটপ্রেমীদের গর্বিত করে।

Also Read:  "বাজারের সমাধান দেখেই রুপির মূল্য বৃদ্ধি" | "Rupee Gains Momentum as Market Sees Relief"

ক্রিজে পৌঁছে যা ঘটেছিল, তা যেন ক্রিকেটের এক অনন্য অধ্যায়। গুরশরণ ভাঙা হাতে ব্যাট ধরেছিলেন অস্বস্তিকরভাবে, তবুও প্রতিটি বল ঠেকিয়ে সচিনকে স্ট্রাইক ফিরিয়ে দিচ্ছিলেন। দু’জনের মধ্যে বোঝাপড়া ছিল নিখুঁত—সচিন আক্রমণ করলেও গুরশরণ কেবল টিকে থেকেও তাঁর ভূমিকা নিখুঁতভাবে পালন করেন। শেষ উইকেটে দু’জনে গড়ে তোলেন মূল্যবান জুটি, আর সেই জুটিই সচিনকে পৌঁছে দেয় কাঙ্ক্ষিত শতকে।

শতরানটি শুধু সংখ্যার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ছিল না; বরং এটাই ছিল ভারতীয় ক্রিকেটে সচিনের স্থায়ী জায়গা পাওয়ার অন্যতম ভিত্তি। আর গুরশরণ সিংয়ের সেই সাহসী সিদ্ধান্তই ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিয়েছিল। সচিন পরে জানিয়েছেন—তিনি আজও সেই ঘটনার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা অনুভব করেন, কারণ একজন সতীর্থের নিঃস্বার্থ সমর্থন তাঁকে তাঁর প্রথম বড় মঞ্চে প্রতিষ্ঠা দিয়েছিল।

সময় পেরিয়ে গেলেও সেই মুহূর্ত ভারতীয় ক্রিকেটের মূল্যবোধকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করেছে—বন্ধুত্ব, দলগত চেতনা এবং আত্মত্যাগ কখনো কখনো স্কোরবোর্ডের বাইরে গিয়ে খেলাকে আরও বড় করে তোলে। গুরশরণ সিংয়ের ভাঙা হাতের সেই লড়াই আজও প্রমাণ করে যে ক্রিকেট কেবল একটি খেলা নয়, বরং সম্পর্ক ও বিশ্বাসের এক অমূল্য বন্ধন।

Also Read:  ঘন কুয়াশায় বদলাল মোদির জনসভার পরিকল্পনা | Dense Fog Disrupts PM Modi’s Taherpur Rally in West Bengal

আজ যখন সেই পুরোনো দিনের গল্প উঠে আসে, তখন প্রজন্মের পর প্রজন্ম অনুপ্রেরণা খুঁজে পায়। একজন নবাগত ব্যাটারের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে নিজের সীমাবদ্ধতাকে উপেক্ষা করে এগিয়ে যাওয়ার যে দৃশ্য গুরশরণ সৃষ্টি করেছিলেন, তা চিরকাল ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি অসম্ভব সুন্দর স্মৃতি হয়ে থাকবে।


WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top