
Win a Picasso With a €100 Ticket: Art and Charity Unite,source: Office Website
পিকাসোর এক অমূল্য চিত্রকর্মকে ঘিরে আবারও শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এক উত্তেজনাপূর্ণ দানাভিত্তিক লটারি। মাত্র এক-শ’ ইউরোর একটি টিকিটেই সাধারণ মানুষের হাতে চলে যেতে পারে বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত শিল্পী পাবলো পিকাসোর আঁকা এক আসল ছবি। শিল্পপ্রেমী এবং মানবিক কাজে আগ্রহী দু’দিকই তাই এই উদ্যোগকে বিশেষভাবে আলোচনায় এনেছে।
এ বছরের লটারিতে মোট ১২০,০০০ টিকিট বিক্রির লক্ষ্য রাখা হয়েছে। অনলাইনের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করা যাবে, আর সব টিকিটের দাম সমান—১০০ ইউরো। নির্দিষ্ট তারিখে নাম ঘোষণা করা হবে সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে। আয়োজনটি প্যারিসের একটি স্বনামধন্য নিলাম প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হবে, যা পুরো ইভেন্টকে আরও মর্যাদাপূর্ণ করে তুলেছে।
লটারির মূল আকর্ষণ “Tête de femme” নামে একটি বিরল চিত্রকর্ম। ১৯৪১ সালে আঁকা এই চিত্রটি পিকাসোর অন্যতম সৃষ্টিশীল সময়ের কাজ বলে বিবেচিত। ছবিতে তাঁর প্রিয় মিউজ ডোরা মার-এর মুখাবয়বকে বিমূর্তভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। শিল্পসংগ্রাহকদের কাছে এই চিত্রকর্মের মান প্রায় এক মিলিয়ন ইউরোরও বেশি বলে ধরা হয়।
এর আগেও দুই দফা একই ধরনের দাতব্য লটারি অনুষ্ঠিত হয়েছে—একটি ২০১৩ সালে এবং আরেকটি ২০২০ সালে। দু’বারেই বিজয়ীরা পেয়েছিলেন পিকাসোর মূল্যবান শিল্পকর্ম। আগের বিজয়ীদের গল্প ইতোমধ্যেই লটারির প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেকেই বলেন, এই পরীক্ষিত উদ্যোগ মানুষকে একই সঙ্গে শিল্পের সৌন্দর্য ও সমাজকল্যাণে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেয়।
চলতি বছরের ইভেন্টটির পুরো উপার্জন যাবে আলঝাইমার গবেষণা ও সেবা উন্নয়নের জন্য। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়তে থাকা এই রোগের মোকাবিলায় গবেষণা তহবিল অত্যন্ত জরুরি। পিকাসোর কাজকে কেন্দ্র করে মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ তাই এই উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
শিল্প আর মানবিকতা—এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই উদ্যোগটির বিশেষত্ব। একদিকে মানুষ পেতে পারে আধুনিক শিল্পের ইতিহাসে এক অনন্য সম্পদ, অন্যদিকে একই টিকিটের মূল্য আবার পরিণত হবে সামাজিক কল্যাণে। অংশগ্রহণকারীদের কাছে এটি শুধু পুরস্কার নয়, বরং একটি বৃহত্তর উদ্দেশ্যের অংশ হওয়ার সুযোগ।
সব মিলিয়ে এই দাতব্য লটারি এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্র। শিল্পপ্রেমী, দাতব্য সংস্থা এবং সাধারণ মানুষ—সকলেই অপেক্ষা করছেন সেই সৌভাগ্যবান বিজয়ীর জন্য, যার হাতে পৌঁছে যাবে পিকাসোর কালজয়ী এক শিল্পকর্ম। একই সঙ্গে আলঝাইমার–বিরোধী গবেষণাও পাবে নতুন গতি।













