
Cold Wave Alert: Hyderabad Records Sharp Fall in Winter Temperature, (This image is AI-generated)
হায়দরাবাদের শীত যেন একেবারে হঠাৎ করেই জেঁকে বসল। ভোরের শহর এখন ঠান্ডার চাদরে ঢাকা, আর সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে অফিসগামী সবাইই এই তাপমাত্রার পতনে বেশ কাঁপছেন। গত কয়েক দিনে শহরের প্রায় সব এলাকাতেই ভোরের সময় তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে গেছে, যা শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
শহরের বিভিন্ন প্রান্তে সকাল বেলায় কুয়াশা জমে থাকছে, ফলে দৃশ্যমানতা কমে যাচ্ছে এবং রাস্তাঘাটে যাতায়াতেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। শীতল বাতাসের দাপটে তাপমাত্রা আরও কমে যাচ্ছে, বিশেষ করে ভোর পাঁচটা থেকে আটটার সময়। দিনের বেলায় রোদ থাকলেও সেই উষ্ণতা শরীরে তেমন লাগছে না।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। রাত ও ভোরের সময় স্বাভাবিকের তুলনায় ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি কম তাপমাত্রা নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে শহরবাসীর জন্য শীত আরও কড়া হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে উপকণ্ঠের এলাকাগুলোতে রাতের ঠান্ডা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।
কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেই রয়েছে, যা শীতের তীব্রতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয়। অনেক বাসিন্দাই জানিয়েছেন, চলতি বছরের শীত এতটা ঝোড়ো হবে তা তারা আশা করেননি। ফলে ছোটবড় সবাই এখন গরম পোশাকের উপরই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।
বয়স্ক মানুষ, ছোট শিশু এবং শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত অসুস্থতায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য এই আবহাওয়া বেশ ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা। তাদের পরামর্শ, বাইরে বেরোতে হলে অবশ্যই গরম পোশাক পরে বেরোতে হবে, আর সম্ভব হলে রাত ও ভোরে বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো।
এদিকে, কুয়াশা ও ঠান্ডার কারণে বায়ুদূষণও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সকালে খোলা জায়গায় হাঁটাচলা করা মানুষদের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তার ধুলাবালু ও নিম্নমানের বায়ু মান অনেকের চোখ-নাক জ্বালাপোড়া এবং কাশি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে শহর প্রশাসন ও বিশেষজ্ঞরা সবাইকে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিচ্ছেন। অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়া, গরম পানি পান করা, এবং শরীর গরম রাখার মতো সাধারণ সতর্কতাগুলোই এই সময়ে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। হায়দরাবাদের বাসিন্দাদের কাছে এই শীত যেন এক অঘোষিত চ্যালেঞ্জ হয়ে এসেছে, আর তা মোকাবিলায় সচেতনতা ও প্রস্তুতিই এখন সবচেয়ে বড় উপায়।












