
NCLAT to Hear Byju’s Appeal on Aakash Share Dispute,Source official website
দেশের শিক্ষা প্রযুক্তি খাতে চলমান অস্থিরতার মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাইজুস এবং আকাশ এডুকেশনাল সার্ভিসেসের শেয়ার সংক্রান্ত জটিলতা। বাইজুসের মূল প্রতিষ্ঠান থিঙ্ক অ্যান্ড লার্নের রেজোলিউশন প্রফেশনাল সম্প্রতি আকাশের রাইটস ইস্যু নিয়ে উদ্ভূত বিরোধকে জাতীয় কোম্পানি আইন আপিলেট ট্রাইব্যুনাল বা এনসিএলএটি-তে নিয়ে গিয়েছেন। অভিযোগ, রাইটস ইস্যুতে সাবস্ক্রাইব করা সত্ত্বেও থিঙ্ক অ্যান্ড লার্নকে প্রাপ্য শেয়ার বরাদ্দ না করে আকাশ তাদের অংশীদারিত্ব হ্রাসের পথে ঠেলে দিয়েছে।
এই ঘটনার সূচনা হয় যখন আকাশ একটি নতুন পুঁজি সংগ্রহ প্রক্রিয়া চালু করে এবং তাতে থিঙ্ক অ্যান্ড লার্ন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শেয়ারে সাবস্ক্রাইব করে। কিন্তু সংস্থাটি দাবি করে, কিছু নিয়ন্ত্রক সমস্যার কারণে এই শেয়ার বরাদ্দ সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে বাইজুসের রেজোলিউশন প্রফেশনালের বক্তব্য, এই যুক্তি কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি মূলত দেউলিয়া সুরক্ষা প্রক্রিয়া চলার সময় সংস্থার সম্পদের ক্ষতি ঘটানোর শামিল।
এদিকে স্থানীয় ট্রাইব্যুনাল আকাশকে পুঁজি সংগ্রহ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। সর্বোচ্চ আদালতও সেই সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ না করায় বাইজুসের অংশীদারিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। অভিযোগ রয়েছে, রাইটস ইস্যুর ফলে আকাশে বাইজুসের পূর্বের অংশীদারিত্ব নাটকীয় হারে হ্রাস পেয়েছে, যা সংস্থাটির ভবিষ্যৎ মূল্যায়নের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
এই বিরোধের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও একটি আলাদা মামলা— অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস বা এডাব্লুএসের বকেয়া বিল সংক্রান্ত বিবাদ। এডাব্লুএস দাবি করছে, তাদের বকেয়া পরিষেবা বাবদ বিলকে কর্পোরেট দেউলিয়া প্রক্রিয়ার মূল খরচ হিসেবে ধরা উচিত। রেজোলিউশন প্রফেশনাল এর বিরোধিতা করে জানিয়েছে, এই দাবি গ্রহণ করলে অন্যান্য ঋণদাতারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সবগুলো মামলার শুনানির জন্য এনসিএলএটি নতুন দিন ধার্য করেছে। প্রথমেই বিচার করা হবে আপিলগুলোর গ্রহণযোগ্যতা— সেগুলি সময়সীমার মধ্যে দাখিল করা হয়েছে কিনা। এরপর মূল বিরোধগুলোর ওপর যুক্তিতর্ক শুরু হবে বলে জানা গেছে। আইনজ্ঞদের মতে, এই শুনানির ফলাফল বাইজুসের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাইজুসের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হলো আকাশে তাদের অংশীদারিত্বের ভবিষ্যৎ। কোম্পানিটি দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে আকাশ তাদের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ। রাইটস ইস্যু সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত যদি তাদের বিরুদ্ধে যায়, তবে দেউলিয়া সুরক্ষা প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে আসা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, এই বিরোধ কেবল শেয়ার বরাদ্দের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি শিক্ষা প্রযুক্তি খাতের অন্যতম বড় প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন, মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ কৌশলের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। আগামী শুনানির ফলাফল তাই শিল্প মহলে তীব্র নজরে রয়েছে।













