
Jeff Bezos Pushes Space-Based Data Center Revolution,Photo Credit: Reuters
জেফ বেজোসের মহাকাশ সংস্থা ব্লু অরিজিন নীরবে এক দুঃসাহসিক প্রকল্পে হাত লাগিয়েছে—কক্ষপথে ডেটা সেন্টার স্থাপন। প্রযুক্তি দুনিয়ায় যখন প্রতিদিন বাড়ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর তথ্য প্রক্রিয়াকরণের চাহিদা, তখন মহাকাশকে নতুন শক্তির উৎস ও তথ্য ব্যবস্থাপনার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার এই চিন্তা বিশেষজ্ঞদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। পৃথিবীর ক্রমবর্ধমান শক্তি-খরচ ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার বাইরে গিয়ে মহাকাশকে কাজে লাগানোর এই ভাবনা নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ব্লু অরিজিন গত এক বছর ধরে কক্ষপথ ভিত্তিক তথ্য কেন্দ্রের প্রযুক্তি পরীক্ষা করছে। তাদের ধারণা, মহাকাশে সূর্যের নিরবচ্ছিন্ন শক্তি এবং তাপমাত্রার স্থিতিশীলতা ব্যবহার করে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ আরও কার্যকরভাবে করা সম্ভব। পৃথিবীর তুলনায় মহাকাশে শক্তির উৎস প্রচুর এবং পরিবেশগত বাধাও কম—এই সুবিধাই ভবিষ্যতের ডেটা সেন্টারের রূপ বদলে দিতে পারে।
বেজোস দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বাস করেন যে আগামী দুই দশকের মধ্যে বড় মাপের ডেটা সেন্টারগুলো কক্ষপথে স্থানান্তর করা বাস্তবসম্মত হয়ে উঠবে। কারণ পৃথিবীর দিন-রাতের চক্র, আবহাওয়া বা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মতো সমস্যা মহাকাশে নেই। ফলে AI-নির্ভর কম্পিউটিং, জটিল ডেটা বিশ্লেষণ ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সার্ভার পরিচালনার ক্ষেত্রে স্পেস-বেসড প্ল্যাটফর্ম অনেক বেশি ধারাবাহিকতা দিতে পারে।
এই দৌড়ে একমাত্র ব্লু অরিজিন নয়। অন্যান্য বড় মহাকাশ সংস্থাও একই দিশায় ভাবতে শুরু করেছে। স্যাটেলাইট শৃঙ্খলকে ব্যবহার করে কম্পিউটিং-ক্ষমতা সরবরাহ করার উদ্যোগ শিল্পমহলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ভবিষ্যতে স্যাটেলাইট শুধু যোগাযোগ নয়, তথ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণের কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করবে—এমন আশাই দেখা যাচ্ছে।
তবে এই প্রকল্পের চ্যালেঞ্জও কম নয়। মহাকাশে হার্ডওয়্যার পরিচালনা, রেডিয়েশন থেকে সুরক্ষা, তাপ নিয়ন্ত্রণ এবং উৎক্ষেপণের ব্যয়—সবই বড় বাধা। গবেষকরা বলছেন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি দ্রুত হলেও কক্ষপথে পূর্ণাঙ্গ ডেটা সেন্টার স্থাপন করতে আরও সময় লাগবে। তবুও আইডিয়াটি যে ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তা সবাই মানছেন।
পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার সময় ডেটা সেন্টারের কার্বন নিঃসরণ কমানোর নতুন পথ খোঁজা জরুরি হয়ে উঠেছে। সেই দিক থেকে মহাকাশের সৌরশক্তি ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ ভবিষ্যতে সবুজ প্রযুক্তির একটি বড় উদাহরণ হতে পারে। পাশাপাশি বিশ্বের দ্রুত-বর্ধমান ডেটা চাহিদা সামলানোর ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর সমাধান হতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, কক্ষপথ ভিত্তিক ডেটা সেন্টারের ধারণা এখনও পরীক্ষামূলক হলেও প্রযুক্তি বিশ্বে এক নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদি এই উদ্যোগ সফল হয়, তাহলে ভবিষ্যতের AI-নির্ভর পৃথিবীতে তথ্য ব্যবস্থাপনার চেহারা আমূল বদলে যাবে—আর এর নেতৃত্ব দেবেন সেই মানুষই, যিনি মহাকাশকে মানবজাতির পরবর্তী ঠিকানা ভাবেন।












