
India Mourns as Ex-Home Minister Shivraj Patil Dies at 90,Source official website
প্রাক্তন কেন্দ্রীয় গৃহমন্ত্রী ও কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা শিবরাজ পাতিল শুক্রবার সকালেই মহারাষ্ট্রের লাতুরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি, তবে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতেই শান্তিপূর্ণভাবে তাঁর মৃত্যু ঘটে। ৯০ বছর বয়সে তাঁর প্রয়াণ রাজনৈতিক মহলে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।
মহারাষ্ট্রের লাতুর জেলার এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা শিবরাজ পাতিলের রাজনৈতিক যাত্রা ছিল অত্যন্ত কর্মমুখর ও বিস্তৃত। সাতবার লাতুর থেকে লোকসভা জিতেছিলেন তিনি, যা তাঁর প্রতি জনসমর্থনের এক স্পষ্ট উদাহরণ। স্থানীয় রাজনীতি থেকে জাতীয় পরিসরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে তিনি কখনও পিছিয়ে যাননি।
রাজনৈতিক জীবনের শুরু হয়েছিল লাতুর মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবে। এরপর ১৯৭০-এর দশকে তিনি মহারাষ্ট্র বিধানসভায় নির্বাচিত হন এবং সেখান থেকে ধীরে ধীরে কেন্দ্রীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে শুরু করেন। তাঁর অভিজ্ঞতা ও সংযত রাজনৈতিক ভাষণ তাঁকে সংসদের এক সম্মানিত মুখে পরিণত করেছিল।
১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সালে লোকসভার স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। পরিমিত ভাষা, শৃঙ্খলাবদ্ধ আচরণ এবং সাংসদদের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে তিনি সমাদৃত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি পঞ্জাবের রাজ্যপাল ও চণ্ডীগড়ের প্রশাসক হিসেবেও ভূমিকা পালন করেন।
২০০৪ সালে তিনি দেশের গৃহমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। গৃহমন্ত্রিত্বের সময়ই ভয়াবহ ২৬/১১ মুম্বাই হামলার মতো দুঃসময়ের মুখোমুখি হয় দেশ। ঘটনার পর নৈতিক দায় স্বীকার করে তিনি মন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান—যা তাঁর রাজনৈতিক সততা ও নীতিবোধের পরিচয় বহন করে।
শিবরাজ পাতিল বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন—বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি থেকে শুরু করে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, পর্যটনসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। সাংবিধানিক বিষয়ে তাঁর গভীর জ্ঞান তাঁকে সহকর্মীদের কাছে আলাদা মর্যাদা দিয়েছিল।
তিনি রেখে গেছেন তাঁর পুত্র, পুত্রবধূ ও দুই নাতনীর মতো কাছের মানুষদের। রাজনৈতিক মহলে তাঁর প্রয়াণে শোকের ঢেউ নেমে এসেছে। সহকর্মীরা স্মরণ করছেন তাঁর সংযত ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও নীতিনিষ্ঠ নেতৃত্বকে। দেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন ধরে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।












