ইউএন ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ সম্মান পেলেন আইএএস সুপ্রিয়া সাহু | India’s Supriya Sahu Honoured with UN Champions of the Earth

India’s Supriya Sahu Honoured with UN Champions of the Earth

India’s Supriya Sahu Honoured with UN Champions of the Earth,Source: social media

তামিলনাড়ুর জ্যেষ্ঠ আইএএস কর্মকর্তা সুপ্রিয়া সাহু আবারও প্রমাণ করলেন যে প্রশাসনিক দায়িত্ব কেবল নীতি প্রণয়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়—সত্যিকারের প্রভাব সৃষ্টি হয় মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনার মাধ্যমে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চরম তাপমাত্রার বিরুদ্ধে উদ্ভাবনী প্রকল্প হাতে নেওয়ার জন্য তিনি সম্প্রতি জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির মর্যাদাপূর্ণ “চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ” পুরস্কার অর্জন করেছেন। পরিবেশ সংরক্ষণে মৌলিক ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণকারীদের জন্য এই সম্মানকে বৈশ্বিক পর্যায়ে সর্বোচ্চ স্বীকৃতি হিসেবে ধরা হয়।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

সুপ্রিয়া সাহু এই পুরস্কার পেয়েছেন ‘ইনস্পিরেশন অ্যান্ড অ্যাকশন’ বিভাগে। অর্থাৎ তার কাজ শুধু উদাহরণই নয়, বাস্তব জীবনে টেকসই সমাধান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। পৌর এলাকা ও ঘনবসতিপূর্ণ শহরে তীব্র তাপমাত্রা ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে তার পরিচালিত কুল রুফ উদ্যোগ বিশেষ নজর কেড়েছে বিশ্বমঞ্চে।

এই প্রকল্পে বাড়ি, স্কুল ও সরকারি ভবনের ছাদে উচ্চ প্রতিফলন ক্ষমতাসম্পন্ন সাদা আবরণ ব্যবহার করা হয়। এর ফলে সূর্যালোকের উল্লেখযোগ্য অংশ ফিরে প্রতিফলিত হওয়ায় ঘরের ভেতরের তাপমাত্রা সাধারণত কয়েক ডিগ্রি কমে যায়। গরমে অতিষ্ঠ মানুষদের জন্য এটি এক ধরনের স্বস্তিদায়ক ও ব্যয়সাশ্রয়ী সমাধান। বিশেষ করে নিম্নআয়ের পরিবার ও বয়স্ক মানুষদের জন্য এই প্রযুক্তি জীবনযাত্রাকে সহজ করে তুলছে।

Also Read:  দিল্লি হাই কোর্টের রায়: ঠিকাদারের মাধ্যমে নিয়োজিত কর্মী মূল কর্মচারী নন | Delhi HC Rules No Employer-Employee Link Through Contractor

কুল রুফ প্রকল্পের আরেকটি শক্তি হলো এর কম খরচ ও সহজ বাস্তবায়নযোগ্যতা। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মতো বিদ্যুৎনির্ভর উপায়ের ওপরে চাপ কমায় এটি। একই সঙ্গে শহুরে তাপ-দ্বীপ প্রভাব কমাতে সাহায্য করে, যা বড় বড় শহরে এক গভীর পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

পুরস্কার গ্রহণ অনুষ্ঠানে সুপ্রিয়া সাহু বলেন, প্রশাসন তার ভূমিকা পালন করবে ঠিকই, কিন্তু বৃহত্তর পরিবর্তনের জন্য সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণই সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি উল্লেখ করেন, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব আমাদের প্রত্যেকের, কারণ প্রকৃতি সবসময় তাকেই রক্ষা করে—যে তাকে সংরক্ষণ করে।

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীও এই অর্জনকে রাজ্যের জন্য “গর্বের মুহূর্ত” বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, পরিবেশ-বান্ধব নীতি ও প্লাস্টিক-বর্জনের মতো প্রচেষ্টায় সুপ্রিয়া সাহুর নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই রাজ্যে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

তার এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়—ভারতের পরিবেশগত উদ্যোগের সক্ষমতারও প্রমাণ। স্থানীয় পর্যায়ে ছোট ছোট প্রকল্প কিভাবে বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে, তার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছেন সুপ্রিয়া সাহু।


WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top