
Wake Up Dead Man: A Dark and Gripping Knives Out Story,Netflix
রিয়ান জনসনের তৃতীয় ‘Knives Out’ কিস্তি “Wake Up Dead Man” দর্শকদের সামনে আরেকটি রহস্যময় গল্পের দিগন্ত খুলে দেয়। পুরো সিনেমায় এক অদ্ভুত ধীরলয়ের টান রয়েছে, যা দর্শকদের গল্পের ভেতরে টেনে নেয়। এই কিস্তিতে হাস্যরসের পরিমাণ আগের তুলনায় কম হলেও মানবিক অনুভূতি ও অন্তর্দ্বন্দ্বের জোরে এটি আরও মননশীল হয়ে উঠেছে। রহস্য সমাধানের বাইরেও চরিত্রগুলোর ব্যক্তিগত সংকট এখানে সমান গুরুত্বপূর্ণ।
গল্পের পটভূমি তৈরি হয়েছে নিউ ইয়র্কের এক শান্ত গ্রামীণ এলাকায়, যেখানে একটি গির্জাকেন্দ্রিক সমাজের মধ্যে চাপা অশান্তির সুর লুকিয়ে থাকে। ওই এলাকার কঠোর স্বভাবের মন্সিগনর জেফারসন উইকসের আচরণ অনেকের কাছেই ভয় ও সন্দেহের কারণ। নতুন যোগ দেওয়া তরুণ পাদ্রী জাড এই পরিবেশে মানিয়ে নিতে গিয়ে নিজের ভেতরের দ্বিধা ও অপরাধবোধের সঙ্গে এক অদ্ভুত সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।
একদিন একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান চলাকালে উইকস রহস্যজনকভাবে মৃত্যু বরণ করলে পুরো সমাজ চমকে যায়। তদন্তে স্থানীয় পুলিশ এগিয়ে এলেও পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে, আর তখনই ডাকা হয় গোয়েন্দা বেনোয়া ব্লাংককে। ব্লাংকের চরিত্র আগের মতোই বুদ্ধিদীপ্ত, ঠান্ডা মাথায় বিশ্লেষণ করতে পারদর্শী এবং মানুষের আচরণের সূক্ষ্ম পরিবর্তন ধরতে পারদর্শী।
জাডের চরিত্রটি এই চলচ্চিত্রে সবচেয়ে বেশি আলো কাড়ে। তরুণ পাদ্রী হিসেবে তার অন্তর্দ্বন্দ্ব, নিজের বিশ্বাস নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং কর্তৃপক্ষের প্রতি বাধ্যতার টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে সে হয়ে ওঠে গল্পের সবচেয়ে মানবিক অংশ। তার প্রতিটি সিদ্ধান্ত দর্শকদের ভাবতে বাধ্য করে, ঠিক ভুলের মাঝের সীমারেখা কতটা সূক্ষ্ম হতে পারে।
গোটা সিনেমার আবহ কিছুটা গথিক, কিছুটা বিষণ্ন। অল্প আলোর দৃশ্য আর চাপা উত্তেজনার ভেতর চরিত্রগুলো যেন নিজেদের লুকোনো সত্যের মুখোমুখি হতে বাধ্য হয়। হত্যার কারণ জানার আগেই দর্শক বুঝতে পারে, এই গল্প শুধু একটি অপরাধ নিয়ে নয়; এটি মানুষের ভেতরের ভাঙচুর, অস্থিরতা আর অদেখা ক্ষতের গল্পও।
গল্প যত শুরুতে সোজা মনে হয়, ধীরে ধীরে ততটাই জটিল হয়ে ওঠে। প্রত্যেক চরিত্রই যেন কোনো না কোনো গোপন বোঝা নিয়ে হাঁটে। আর এই গোপনীয়তাগুলোই ব্লাংকের তদন্তকে আরও স্তরপূর্ণ করে তোলে। সন্দেহভাজনদের প্রতিটি কথার আড়ালে লুকিয়ে থাকে আরেকটি প্রশ্ন, আরেকটি সম্ভাবনা।
শেষ পর্যন্ত “Wake Up Dead Man” এমন একটি রহস্যচলচ্চিত্র হয়ে দাঁড়ায়, যা শুধু বিনোদন দেয় না—চরিত্রগুলোর ব্যথা, অপরাধবোধ এবং ক্ষমার আকাঙ্ক্ষাকে জীবন্ত করে তোলে। এ কারণেই এটি ‘Knives Out’ সিরিজের সবচেয়ে পরিণত ও অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।












