
Powerful Quake Hits Japan’s Coast, Residents Warned to Stay Alert,[JIJI Press/AFP]
জাপানের উত্তরপূর্বাঞ্চল আজ আবারও শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে এগারোটার কিছু পর অনুভূত এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৬.৭। ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল অমোরি প্রিফেকচারের উপকূলের কাছে, প্রায় ২০ কিলোমিটার গভীরে। হঠাৎ কম্পন শুরু হওয়ার পর উপকূলবর্তী শহরগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, মানুষ নিরাপত্তার জন্য বাড়িঘর থেকে বেরিয়ে আসে।
এই ভূমিকম্পের পরপরই জাপানের আবহাওয়া সংস্থা স্বল্পমাত্রার সুনামি–সতর্কতা জারি করে। জানানো হয় যে উপকূলীয় এলাকায় এক মিটার পর্যন্ত ঢেউ দেখা দিতে পারে। হোক্কাইডো ও অমোরির কয়েকটি অঞ্চলে সাইরেন বাজিয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়। যদিও পরে সতর্কতার মাত্রা কিছুটা কমানো হয়, তবুও মানুষকে সমুদ্রতট থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ভূমিকম্পের তীব্রতা বেশি হলেও আশাব্যঞ্জক খবর হলো—এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা আহতের তথ্য মিলেনি। কিছু অঞ্চলে সামান্য ঢেউ দেখা গেলেও তা বড় কোনো বিপদের সৃষ্টি করেনি। জরুরি দপ্তরগুলো দ্রুত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে জানায় যে বেশিরভাগ এলাকায় স্বাভাবিক অবস্থা বজায় আছে।
এই কম্পনটি সপ্তাহের শুরুতে একই অঞ্চলে ঘটে যাওয়া আরও একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর দ্বিতীয় বড় আঘাত। আগের ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭-এর কাছাকাছি এবং তাতে বেশ কিছু মানুষ আহত হয়েছিল। রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কিছু স্থানে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ কারণে স্থানীয় জনগণের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কের মাত্রা বেশি ছিল।
ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে জাপানে মানুষ সবসময় প্রস্তুত থাকলেও বড় কম্পনের স্মৃতি খুবই সংবেদনশীল। ২০১১ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্প ও সুনামির অভিজ্ঞতা এখনও মানুষের মনে তাজা। তাই প্রতিটি সতর্কতা ও ছোট কম্পনকেও গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, এসব ভূমিকম্প বড় কম্পনের পূর্বাভাস হতে পারে, তাই সতর্ক থাকা জরুরি।
সাম্প্রতিক কম্পনের পর জরুরি সেবা বিভাগ বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় খাবার, পানি, টর্চলাইটসহ জরুরি সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখতে বলছে। পাশাপাশি বিকল্প আশ্রয়কেন্দ্রগুলোও প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে প্রয়োজন পড়লে দ্রুত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া যায়।
এদিকে দেশের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে কোনো ধরনের ত্রুটি বা নিরাপত্তা ঝুঁকি পাওয়া যায়নি। সামগ্রিকভাবে, বড় ক্ষতি না হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে, আর প্রশাসন আপাতত সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।












