
IndiGo Operations Collapse: Crew Shortage and FDTL Rules Trigger Crisis,Source official website
ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় বেসরকারি বিমান সংস্থা ইন্ডিগো সম্প্রতি এক বড় সংকটের মুখে পড়ে, যখন ক্রু পরিকল্পনা এবং নতুন FDTL নিয়ম মানতে গিয়ে তাদের ফ্লাইট পরিচালনায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয়। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হতে থাকে, আর যাত্রীরা হঠাৎই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন। হঠাৎ এই পরিস্থিতির ফলে বিমানবন্দরগুলোতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং ভ্রমণকারীদের পরিকল্পনা সম্পূর্ণ বদলে যায়।
নতুন FDTL বা ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশনস নিয়ম মূলত পাইলটদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করার জন্য প্রণয়ন করা হয়েছিল। নিয়মের দ্বিতীয় ধাপ কার্যকর হওয়ার পর গভীর রাতে ফ্লাইট দায়িত্ব কমানো, বাড়তি বিশ্রামের বাধ্যবাধকতা এবং নির্দিষ্ট অপারেশন সীমা কার্যকর হয়। কিন্তু ইন্ডিগো সময়মতো তার ক্রু পরিকল্পনা সাজাতে ব্যর্থ হয়। এর ফলে অনেক পাইলট একই সময়ে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হয়ে পড়েন এবং শিডিউল ভেঙে যায়।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে প্রতিদিনই বিপুল সংখ্যক ফ্লাইট বাতিল করতে হয়। দিল্লি, মুম্বাই, হায়দরাবাদসহ দেশের ব্যস্ততম বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা যায়। কারও কারও ভ্রমণের পরিকল্পনা বাতিল হয়ে যায়, আবার কেউ নতুন টিকিট বুক করতে বাধ্য হন। এতে যাত্রী অসন্তোষও ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।
ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষ পরে স্বীকার করে যে নতুন নিয়ম বাস্তবায়নে তাদের পরিকল্পনা ত্রুটিপূর্ণ ছিল এবং ক্রু সংখ্যার ঘাটতি আগে থেকেই আন্দাজ করা হয়নি। তারা বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ-র সঙ্গে বৈঠকে কিছু ধারা থেকে অস্থায়ী ছাড়ের আবেদন জানিয়েছে, যাতে তারা অপারেশন ধীরে ধীরে স্থিতিশীল করতে পারে। কোম্পানি নিশ্চিত করেছে যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তারা দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে।
সরকারও ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। ডিজিসিএ ইন্ডিগোকে আরও পাইলট নিয়োগ করতে, শিডিউল পুনর্গঠন করতে এবং ভবিষ্যতের জন্য সঠিক ক্রু পরিকল্পনা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে, যাত্রী সাধারণের ভোগান্তি কমাতে কতগুলি ব্যস্ত রুটে সাময়িকভাবে ফ্লাইট সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই অভূতপূর্ব পরিস্থিতির ফলে দেশজুড়ে বিমান চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। অনেক যাত্রীর ব্যবসায়িক ভ্রমণ, চিকিৎসা সংক্রান্ত যাত্রা এবং পারিবারিক অনুষ্ঠান পর্যন্ত স্থগিত হয়েছে। বিমানবন্দরগুলোতে অসহায় যাত্রীদের লম্বা লাইন, পুনরায় বুকিংয়ের চাপ এবং তথ্যের ঘাটতি পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তোলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে যে বড় এয়ারলাইনের ক্ষেত্রেও আগাম পরিকল্পনার গুরুত্ব কতটা। যথাযথ জনবল ও নির্ভুল শিডিউলিং ছাড়া নতুন কোনো নিয়ম কার্যকর হলে এমন পরিস্থিতি পুনরায় দেখা দিতে পারে। ইন্ডিগোর দাবি—সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং বাড়তি ক্রু নিয়োগের মাধ্যমে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।












