কুয়াশা ও দূষণে আরও কঠিন উত্তর ভারতের শীত | Fog and Rising Pollution Worsen Winter in North India

Fog and Rising Pollution Worsen Winter in North India

Fog and Rising Pollution Worsen Winter in North India,Source official website

উত্তর ভারতের শীতের ছবি এখন বেশ চিন্তার। দিল্লি-এনসিআর, উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাব ও হরিয়ানার বিস্তীর্ণ এলাকায় একসঙ্গে জাঁকিয়ে বসেছে ঠান্ডা, ঘন কুয়াশা ও দূষণ। ভোরের দিকে রাস্তাঘাট প্রায় ঢেকে যাচ্ছে ধূসর চাদরে, ফলে দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে যানচালক—সবার কাছেই এই আবহাওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

সকালের দিকে দৃশ্যমানতা এতটাই কমে যাচ্ছে যে অনেক জায়গায় কয়েক মিটারের বেশি দেখা যাচ্ছে না। কুয়াশার সঙ্গে ধোঁয়া মিশে তৈরি হচ্ছে স্মগ, যা শ্বাস নেওয়াকেও কষ্টকর করে তুলছে। অফিসযাত্রী ও স্কুলপড়ুয়া পড়েছে সমস্যায়, কারণ সময়মতো পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়ছে। রাস্তায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে।

দিল্লি ও আশপাশের এলাকায় বায়ুমানের অবস্থা আরও উদ্বেগজনক। বহু জায়গায় বায়ুদূষণের সূচক বিপজ্জনক স্তরে পৌঁছেছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক মানুষ এবং যাঁদের শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগের সমস্যা আছে, তাঁদের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত ক্ষতিকর। চিকিৎসকরাও বাইরে কম বেরোনোর পরামর্শ দিচ্ছেন।

শীতকালে এমন পরিস্থিতির একটি বড় কারণ হল বাতাসের গতি কমে যাওয়া। ঠান্ডা হাওয়ার প্রবাহ দুর্বল থাকায় দূষিত কণা সহজে সরে যেতে পারে না। ফলে ধোঁয়া, ধুলো ও ক্ষতিকর গ্যাস বাতাসেই আটকে থাকে। এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণকাজের ধুলা।

Also Read:  ইন্টার মায়ামির প্রথম MLS শিরোপা, জ্বলে উঠলেন মেসি | Inter Miami Wins First MLS Title as Messi Shines Again

পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিছু এলাকায় নির্মাণকাজে নিয়ন্ত্রণ, ভারী যান চলাচলে বিধিনিষেধ এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ জারি হয়েছে। স্কুল ও অফিসগুলিকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, যাতে শিশুদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি কম হয়।

আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী কয়েক দিনেও খুব দ্রুত স্বস্তি পাওয়ার সম্ভাবনা কম। রাতের তাপমাত্রা আরও নামতে পারে এবং কুয়াশার দাপট বাড়তে পারে। হালকা বাতাস বা বৃষ্টির সম্ভাবনা না থাকলে দূষণের স্তর একই রকম থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই অবস্থায় সাধারণ মানুষের সচেতনতা সবচেয়ে জরুরি। অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে না বেরোনো, মাস্ক ব্যবহার করা এবং বাড়িতে শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ যত্ন নেওয়া এখন দরকার। দীর্ঘমেয়াদে দূষণ কমাতে কঠোর নীতি ও পরিবেশবান্ধব অভ্যাসই একমাত্র স্থায়ী সমাধান—এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top