
Seven Wides in One Over: A Rare Cricket Moment,Source: social media
ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচে এমন এক দৃশ্য দেখা গেল, যা খুব কমই ক্রিকেট মাঠে নজরে আসে। ম্যাচের উত্তেজনার মাঝেই হঠাৎ করে খেলার ছন্দ ভেঙে যায় একটি মাত্র ওভারে। ভারতের বাঁহাতি পেসার অর্শদীপ সিংয়ের সেই ওভারটি যেন শেষই হচ্ছিল না। একের পর এক ওয়াইডে থমকে যায় ম্যাচের স্বাভাবিক গতি, আর গ্যালারিতে বসা দর্শকেরা অবাক চোখে তাকিয়ে থাকেন মাঠের দিকে।
ওভারের শুরুতে পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু প্রথম ওয়াইডের পর থেকেই সমস্যার সূত্রপাত। ধীরে ধীরে সেটি পরিণত হয় অস্বস্তিকর এক মুহূর্তে। পরপর সাতটি ওয়াইড দেওয়ায় আম্পায়ারের হাত বারবার উপরে উঠেছে, আর প্রতিবারই দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোরবোর্ডে যুক্ত হয়েছে বিনা পরিশ্রমের রান। এমন দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে।
এই দীর্ঘ ওভার ম্যাচের গতিপথে বড় প্রভাব ফেলে। দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটাররা কোনও ঝুঁকি না নিয়েই বাড়তি রান পেয়ে যান। অন্যদিকে ভারতীয় ফিল্ডারদের মধ্যে স্পষ্ট হতাশা লক্ষ্য করা যায়। মাঠের ভেতরের সেই চাপ ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে পুরো দলের মধ্যে, যা পরের ওভারগুলিতেও প্রভাব ফেলেছে।
অর্শদীপ সিং সাধারণত শান্ত মাথায় বল করার জন্য পরিচিত। নতুন বলে সুইং হোক বা ডেথ ওভারে নিখুঁত ইয়র্কার—তাঁর দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার কথা নয়। কিন্তু ক্রিকেটে এমন দিনও আসে, যখন অভিজ্ঞ বোলারও ছন্দ হারিয়ে ফেলেন। ওই ওভারটি যেন তাঁর জন্য ঠিক তেমনই একটি মুহূর্ত হয়ে দাঁড়ায়।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় ম্যাচে মানসিক চাপই অনেক সময় এই ধরনের ভুলের কারণ হয়ে ওঠে। কয়েকটি বল ঠিকমতো না বসতেই আত্মবিশ্বাসে ফাটল ধরে, আর সেখান থেকেই ভুলের পর ভুল। অর্শদীপের ক্ষেত্রেও সেই মানসিক লড়াইটাই সামনে এসেছে বলে মনে করছেন অনেকে।
তবে একটি ওভার দিয়ে কোনও ক্রিকেটারের সামগ্রিক মান বিচার করা যায় না। অতীতে বহুবার কঠিন পরিস্থিতিতে দলকে বাঁচিয়েছেন অর্শদীপ। তাই এই ঘটনাকে অভিজ্ঞতার অংশ হিসেবেই দেখছেন দলের সমর্থকেরা এবং ক্রিকেটমহল।
ম্যাচ শেষের পর এই ওভার নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়—কেউ সমালোচনা করেছেন, কেউ আবার তরুণ পেসারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। নিঃসন্দেহে এই অদ্ভুত ওভার ক্রিকেট ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী মুহূর্ত হয়ে থাকবে, যা দীর্ঘদিন মনে রাখা হবে।












