
NPL 2025: Lumbini Lions Seal Final Spot,Source official website
নেপাল প্রিমিয়ার লিগ ২০২৫-এর কোয়ালিফায়ার টু ম্যাচে লুম্বিনি লায়ন্স দারুণ নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে বিরাটনগর কিংসকে ৪০ রানে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেল। কির্তিপুরের ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরু থেকেই লায়ন্সের খেলায় ছিল আত্মবিশ্বাস ও পরিকল্পনার ছাপ। চাপের ম্যাচে অভিজ্ঞতা ও শৃঙ্খলাই যে বড় পার্থক্য গড়ে দেয়, সেটাই প্রমাণ হলো এই লড়াইয়ে।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে লুম্বিনি লায়ন্স খুব দ্রুত ছন্দে উঠতে পারেনি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও মাঝের ওভারে দলের দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার ইনিংস সামাল দেন। সংযত ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে তারা স্কোরবোর্ড এগিয়ে নিয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রান তোলে দলটি। উইকেটের গতি বিবেচনায় এই রানকে লড়াইয়ের মতোই ধরা হচ্ছিল।
বিরাটনগর কিংসের বোলাররা শুরুতে বেশ চাপে রাখলেও শেষের দিকে কয়েকটি বাড়তি রান দিয়ে ফেলে। তবুও মাঝের ওভারে তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ লাইন ও লেন্থ ম্যাচে ফেরার সুযোগ এনে দিয়েছিল। বিশেষ করে স্পিনারদের বোলিংয়ে লুম্বিনির ব্যাটাররা খোলস ছেড়ে বেরোতে পারেননি।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বিরাটনগর কিংসের শুরুটা ছিল হতাশাজনক। ওপেনিং জুটিই দ্রুত ভেঙে পড়ে এবং চাপ ক্রমেই বাড়তে থাকে। অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক নাম থাকা সত্ত্বেও ব্যাটিং লাইনআপ গুছিয়ে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়। পাওয়ারপ্লের মধ্যেই একাধিক উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে যায় কিংস।
মাঝের ওভারে একজন ব্যাটার কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। কয়েকটি আকর্ষণীয় শটের মাধ্যমে আশা জাগালেও অন্য প্রান্তে নিয়মিত উইকেট পড়তে থাকায় সেই লড়াই দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। প্রয়োজনীয় রানরেট দ্রুত নাগালের বাইরে চলে যায় এবং চাপ আরও বেড়ে যায়।
লুম্বিনি লায়ন্সের বোলিং আক্রমণ ছিল এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় পার্থক্য। পেস ও স্পিনের সঠিক মিশ্রণে তারা বিরাটনগরের ব্যাটারদের কোনো সময়ই স্বস্তিতে খেলতে দেয়নি। ধারাবাহিকভাবে সঠিক জায়গায় বল ফেলে তারা প্রতিপক্ষকে ভুল করতে বাধ্য করে এবং শেষ পর্যন্ত ১৭ ওভারের একটু বেশি সময়েই কিংসকে গুটিয়ে দেয়।
এই জয়ের ফলে লুম্বিনি লায়ন্স ফাইনালে জায়গা করে নিল এবং শিরোপার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেল। অন্যদিকে, বিরাটনগর কিংসের জন্য এই হার টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের বেদনা নিয়ে এলো। দর্শকদের জন্য ম্যাচটি ছিল উত্তেজনায় ভরা, আর নেপাল প্রিমিয়ার লিগ আরও একবার প্রমাণ করল যে দেশটির ক্রিকেট দ্রুত পরিণত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হয়ে উঠছে।












