ভোটার কার্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পরিচয়পত্র। ভোট দেওয়া ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কাজে এই কার্ডের প্রয়োজন হয়। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় ভোটার কার্ডে নামের বানান ভুল, পুরো নাম ঠিক নেই বা জন্মতারিখ ভুলভাবে লেখা আছে। এই ধরনের সমস্যার কারণে অনেক ঝামেলায় পড়তে হয়।
আগে এই ভুল ঠিক করতে গেলে নির্বাচন অফিসে বারবার যেতে হতো। এখন ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে ঘরে বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেই সহজে ভোটার কার্ডের ভুল তথ্য সংশোধন করা যায়।
🔸 সংশোধনের আগে যা প্রস্তুত রাখবেন
আবেদন করার আগে কিছু জিনিস প্রস্তুত রাখা ভালো—
- একটি স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট
- আধার কার্ড
- জন্ম সনদ বা স্কুলের সার্টিফিকেট (জন্মতারিখের জন্য)
- পরিষ্কার ছবি তোলার সুবিধা
এই ডকুমেন্টগুলো থাকলে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ হয়।
🔸 ধাপে ধাপে ভোটার কার্ড সংশোধনের পদ্ধতি
ধাপ ১: অনলাইন ভোটার পরিষেবায় লগইন করুন
মোবাইল দিয়ে ভোটার সার্ভিস পোর্টালে ঢুকে মোবাইল নম্বর দিয়ে লগইন বা নতুন রেজিস্ট্রেশন করুন। OTP দিয়ে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে হবে।
ধাপ ২: সংশোধনের ফর্ম নির্বাচন করুন
লগইন করার পর ভোটার কার্ড সংশোধনের অপশন নির্বাচন করুন। এখানে নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম বা অন্যান্য তথ্য সংশোধনের অপশন থাকবে।
ধাপ ৩: সঠিক তথ্য লিখুন
এখন যে তথ্যটি ভুল আছে, তার পরিবর্তে সঠিক তথ্য লিখুন। মনে রাখবেন, ডকুমেন্টে যেমন লেখা আছে, ঠিক তেমনভাবেই লিখতে হবে।
ধাপ ৪: প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড করুন
নাম বা জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য ডকুমেন্টের পরিষ্কার ছবি আপলোড করুন। ছবি যেন ঝাপসা না হয়, সেটি নিশ্চিত করুন।
ধাপ ৫: আবেদন সাবমিট করুন
সব তথ্য ঠিকভাবে পূরণ হলে আবেদন সাবমিট করুন। সাবমিট করার পর একটি রেফারেন্স নম্বর পাওয়া যাবে। এটি সংরক্ষণ করে রাখুন।
🔸 আবেদন করার পর কী হয়
আবেদন জমা পড়ার পর নির্বাচন দপ্তর আপনার তথ্য যাচাই করে। সবকিছু ঠিক থাকলে কিছুদিনের মধ্যেই ভোটার কার্ডে সংশোধন সম্পন্ন হয়। প্রয়োজনে স্থানীয় অফিস থেকে ফোন বা মেসেজ আসতে পারে।
✅ উপসংহার
ভোটার কার্ডে নাম বা জন্মতারিখ ভুল থাকা চিন্তার বিষয় নয়, যদি সময়মতো তা ঠিক করে নেওয়া যায়। বর্তমান অনলাইন ব্যবস্থার ফলে ঘরে বসে মোবাইল দিয়েই এই সংশোধন করা সম্ভব। সঠিক ডকুমেন্ট ও ধাপে ধাপে আবেদন করলে সহজেই আপনার ভোটার কার্ডের ভুল তথ্য ঠিক হয়ে যাবে এবং ভবিষ্যতে আর কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না।













