
Why Overseas Stars Can’t Earn Above Rs 18 Crore in IPL,Source: social media
আইপিএল নিলাম মানেই কোটি কোটি টাকার দর, উত্তেজনা আর বড় নামের দাপট। তবে সাম্প্রতিক সময়ে একটি নির্দিষ্ট নিয়ম নিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছে আইপিএল। সেই নিয়ম অনুযায়ী, ক্যামেরুন গ্রীনের মতো বিদেশি তারকারা নিলামে যত বড় দরেই বিক্রি হোন না কেন, তাঁদের ব্যক্তিগত আয় একটি নির্দিষ্ট সীমার বাইরে যাবে না। এই বিষয়টি নিয়ে ক্রিকেট মহলে কৌতূহল ও প্রশ্ন দুটোই বেড়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আইপিএল নিলামে কোনো ওভারসিজ খেলোয়াড় সর্বোচ্চ ১৮ কোটি টাকা পর্যন্তই নিজের পারিশ্রমিক হিসেবে পাবেন। যদি কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি তার জন্য এর বেশি দর হাঁকে, তাহলে সেই অতিরিক্ত অর্থ সরাসরি খেলোয়াড়ের পকেটে যাবে না। অর্থাৎ বিডের অঙ্ক আর খেলোয়াড়ের প্রাপ্ত অর্থ—এই দুটির মধ্যে এখন পরিষ্কার ফারাক থাকছে।
এই নিয়ম চালুর মূল উদ্দেশ্য হিসেবে ধরা হচ্ছে নিলামের বাজারে লাগাম টানা। আগের কয়েকটি নিলামে দেখা গিয়েছিল, কিছু বিদেশি ক্রিকেটারের জন্য অস্বাভাবিক রকমের দর উঠছিল। এতে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর বাজেট ব্যবস্থাপনায় চাপ বাড়ছিল এবং পুরো নিলাম প্রক্রিয়া কিছুটা অসম হয়ে উঠছিল। সেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই এই সীমা নির্ধারণ।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই বিধিনিষেধ শুধুমাত্র বিদেশি ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ভারতীয় খেলোয়াড়েরা যদি নিলামে ২০ বা ২৫ কোটি টাকায় বিক্রি হন, তাহলে তাঁদের পুরো অর্থই পাওয়ার অধিকার থাকবে। ফলে দেশি ও বিদেশি খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক কাঠামোর মধ্যে একটি স্পষ্ট পার্থক্য তৈরি হয়েছে।
নিলামের সময় ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলি পুরো বিড মূল্যই তাদের পার্স থেকে খরচ করবে। তবে খেলোয়াড়ের হাতে ১৮ কোটির বেশি যাবে না। বাড়তি অর্থ ব্যবহৃত হবে ক্রিকেট সংক্রান্ত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক খাতে, এমনটাই জানা যাচ্ছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে টুর্নামেন্টের আর্থিক ভারসাম্য বজায় থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিয়ম আইপিএলের অর্থনৈতিক কাঠামোকে আরও স্থিতিশীল করবে। একই সঙ্গে এটি দলগুলিকে আরও বিচক্ষণভাবে পরিকল্পনা করতে বাধ্য করবে। শুধু বড় নামের পেছনে অযথা টাকা ঢালার প্রবণতা কমবে এবং দল গঠনে ভারসাম্য আসবে।
সব মিলিয়ে, আইপিএল নিলামের এই পরিবর্তন শুধু খেলোয়াড়দের আয়ের বিষয় নয়, বরং টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশও তুলে ধরছে। দর্শকদের চোখে নিলামের উত্তেজনা অটুট থাকলেও, পর্দার আড়ালে আইপিএল এখন আরও সুসংগঠিত ও নিয়ন্ত্রিত পথে এগোচ্ছে।












