
Outrage Over Viral Video Raises Questions on Women’s Safety,Source: social media
সাম্প্রতিক সময়ে একটি ১৯ মিনিটের ভিডিও ঘিরে দেশজুড়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা আবারও সমাজের অস্বস্তিকর এক বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ, লজ্জা ও কৌতূহল—সব মিলিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কিন্তু এই ঘটনার গভীরে তাকালে বোঝা যায়, বিষয়টি কেবল একটি ভিডিও নিয়ে নয়, বরং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সামাজিক মানসিকতার বড় সংকট নিয়ে।
এই ভিডিওতে এক নারীর ব্যক্তিগত মুহূর্ত অনুমতি ছাড়াই ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ডিজিটাল যুগে স্মার্টফোন ও সোশ্যাল মিডিয়া যত সহজলভ্য হচ্ছে, ততই ব্যক্তিগত পরিসর অনিরাপদ হয়ে পড়ছে। অনেকেই বুঝতে পারছেন না, একটি ক্লিক কীভাবে কারও জীবনকে চিরতরে বদলে দিতে পারে।
ঘটনার পর সবচেয়ে হতাশাজনক দিক হল, দোষীর পরিবর্তে ভুক্তভোগীকেই কাঠগড়ায় তোলার প্রবণতা। সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে তার আচরণ, পোশাক ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে। এই লিঙ্গভিত্তিক দোষারোপ স্পষ্ট করে দেয়, আজও আমাদের সমাজে নারীর সম্মতি ও মর্যাদাকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয় না।
আইন অনুযায়ী, কারও ব্যক্তিগত ভিডিও অনুমতি ছাড়া রেকর্ড বা ছড়িয়ে দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সাইবার আইন ও ফৌজদারি আইনে এর জন্য কড়া ব্যবস্থা রয়েছে। তবুও বাস্তবে বহু ক্ষেত্রেই অপরাধীরা ধরা ছাড়া পেয়ে যায়, আর ভুক্তভোগীরা সামাজিক চাপ ও ভয়ের কারণে নীরব থাকতে বাধ্য হন।
এই ঘটনার প্রতিবাদে বিভিন্ন নারী সংগঠন ও সমাজকর্মীরা সরব হয়েছেন। তাঁদের মতে, শুধু আইন দিয়ে নয়, মানসিকতার পরিবর্তন ছাড়া এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ানোর বদলে তাকে দোষারোপ করার সংস্কৃতি বন্ধ করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংবেদনশীল কনটেন্ট দ্রুত সরানো, রিপোর্টিং ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা এবং ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—এই সব বিষয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে।
সবশেষে বলা যায়, এই ১৯ মিনিটের ভিডিও আমাদের সমাজের একটি বড় আয়না। এখানে ভয়্যারিজম, গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য একসঙ্গে ধরা পড়েছে। এখনই যদি সচেতনতা, সহানুভূতি ও দায়িত্ববোধ গড়ে না তোলা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।












