বিশ্ববিদ্যালয় বিল বাতিলে ধাক্কা রাজ্য সরকারের | Setback for Bengal Govt as University Bill Rejected

Setback for Bengal Govt as University Bill Rejected

Setback for Bengal Govt as University Bill Rejected,Source official website

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মূর্মু পশ্চিমবঙ্গের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিল অনুমোদন না করায় রাজ্য রাজনীতি ও শিক্ষা মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই বিলের মূল প্রস্তাব ছিল, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ করা। বর্তমানে এই দায়িত্ব রাজ্যপালের হাতে রয়েছে। রাষ্ট্রপতির সম্মতি না পাওয়ায় বিলটি কার্যকর হলো না এবং আগের ব্যবস্থাই বহাল রইল।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় এই সংশোধনী বিলটি পাস হওয়ার পর রাজ্যপাল সেটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠান। প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছিল, গভর্নরের পরিবর্তে মুখ্যমন্ত্রীই রাজ্যের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রধান হবেন। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালন ব্যবস্থায় একটি বড় কাঠামোগত পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে মনে করছেন অনেকেই।

এই বিলের সঙ্গে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত আরেকটি সংশোধনীও যুক্ত ছিল। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীকে “আমির-এ-জামিয়া” বা চ্যান্সেলরের দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়। দুই ক্ষেত্রেই উদ্দেশ্য ছিল এক—বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্তৃত্ব রাজ্য সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে আনা। তবে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তে এই দুই প্রস্তাবই কার্যত বাতিল হয়ে গেল।

Also Read:  ওয়ার্নার ডিল ব্যর্থ হলে নেটফ্লিক্সের বিপুল ঝুঁকি |Massive Risk for Netflix If the Warner Deal Fails

রাজনৈতিক মহলে এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিরোধী দলগুলির দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা জরুরি। তাদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী চ্যান্সেলর হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত এবং শিক্ষাক্ষেত্রে দলীয় হস্তক্ষেপের ঝুঁকি বাড়ত।

অন্যদিকে রাজ্য সরকারের যুক্তি ছিল ভিন্ন। তাদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী চ্যান্সেলর হলে রাজ্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমন্বয় আরও মজবুত হতো। নিয়োগ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো বলেই সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল।

রাষ্ট্রপতির সম্মতি না মেলায় আপাতত রাজ্যের সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চ্যান্সেলরের ভূমিকায় রাজ্যপালই থাকছেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালন ব্যবস্থা নিয়ে রাজ্য ও রাজ্যপালের মধ্যে যে টানাপোড়েন চলছিল, তা আপাতত আগের অবস্থাতেই রয়ে গেল।

এই ঘটনাটি আবারও রাজ্য ও কেন্দ্রের সাংবিধানিক সম্পর্ক এবং শিক্ষা ব্যবস্থার স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ভবিষ্যতে রাজ্য সরকার নতুন কোনও সংশোধনী আনে কি না, নাকি আইনি পথে বিষয়টি এগিয়ে নিয়ে যায়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলের।


WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top