
PM Modi’s Jordan Visit Marked by Royal Dinner,Source official website
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সফরের অংশ হিসেবে জর্ডানে পৌঁছান। আম্মানে পৌঁছেই তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ। এই সফরের অন্যতম উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত ছিল পশ্চিম আম্মানে অবস্থিত ঐতিহাসিক আল-হুসেইনিয়া প্রাসাদে দুই রাষ্ট্রনেতার একসঙ্গে নৈশভোজে অংশগ্রহণ। কূটনৈতিক সৌজন্যের বাইরে গিয়ে এই ডিনার দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বার্তা বহন করে।
আল-হুসেইনিয়া প্রাসাদ জর্ডানের রাজপরিবারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। আধুনিক স্থাপত্যের সঙ্গে আরব-ইসলামিক ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে তৈরি এই প্রাসাদে বহু আন্তর্জাতিক বৈঠক ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। রাজা আবদুল্লাহ নিজে এই প্রাসাদে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে স্বাগত জানান, যা সফরটির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তোলে।
এই নৈশভোজ ছিল শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দুই দেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্বের প্রতিফলন। শান্ত পরিবেশে দুই নেতা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে মত বিনিময় করেন। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি, শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং উন্নয়নমূলক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
জর্ডানের রাজা আবদুল্লাহ দ্বিতীয় হাশেমীয় রাজবংশের উত্তরসূরি এবং মধ্যপ্রাচ্যের একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই শান্তি, ধর্মীয় সহাবস্থান এবং আন্তর্জাতিক সংলাপের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। তাঁর নেতৃত্বে জর্ডান কূটনৈতিক ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
প্রাসাদের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা ও স্থাপত্য রাজকীয় রুচির পরিচয় বহন করে। মার্বেল ও নকশাদার দেয়াল, খোদাই করা দরজা এবং প্রশস্ত সভাকক্ষ এই স্থাপনাটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। এমন পরিবেশে অনুষ্ঠিত ডিনার দুই দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সম্মানকেই তুলে ধরে।
প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সফরে ভারত-জর্ডান সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা, পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়—সব ক্ষেত্রেই সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই ডিনার তারই একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ সূচনা বলা যায়।
সামগ্রিকভাবে, আল-হুসেইনিয়া প্রাসাদে আয়োজিত এই নৈশভোজ ভারত ও জর্ডানের কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও দৃঢ় হবে—এমন প্রত্যাশাই উঠে এসেছে এই বৈঠক থেকে।












