
Axis Bank Stock Under Pressure, Investors Cautious,Source official website
শেয়ার বাজারে মঙ্গলবার বড় ধাক্কা খেল এক্সিস ব্যাংক। দিনের লেনদেনে ব্যাংকের শেয়ার প্রায় ৪ শতাংশ নেমে যায়, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারটি তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও হঠাৎ এই পতন বাজারের নজর কেড়েছে। বিশেষ করে ব্যাঙ্কিং খাতের বিনিয়োগকারীরা এই পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক হয়ে উঠেছেন।
এই পতনের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ব্যাংকের আয়ের ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস নিয়ে অনিশ্চয়তা। এক্সিস ব্যাংকের কর্তৃপক্ষ ইঙ্গিত দিয়েছে যে নেট ইন্টারেস্ট মার্জিন বা এনআইএম আগের ধারণার তুলনায় ধীরে স্বাভাবিক স্তরে ফিরতে পারে। ফলে স্বল্পমেয়াদে মুনাফার বৃদ্ধির গতি প্রত্যাশার চেয়ে কম হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
ব্যাংকের আয়ের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে অনেকেই ‘ধীরে ধাপে ধাপে এগোনো’ বলছেন। সুদের হার সংক্রান্ত চাপ, তহবিল সংগ্রহের খরচ এবং ঋণের সুদে মার্জিন—এই সব মিলিয়ে আগামী কয়েকটি ত্রৈমাসিক ব্যাংকের জন্য চ্যালেঞ্জের হতে পারে। এই কারণেই বিনিয়োগকারীদের একাংশ শেয়ার বিক্রি করে লাভ তুলে নেওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন।
তবে পুরো ছবিটা শুধুই নেতিবাচক নয়। কর্পোরেট ঋণ বিভাগে চাহিদা ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং বড় সংস্থাগুলির কাছ থেকে ঋণের অনুরোধও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি খুচরো ঋণ বিভাগেও স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকের আয়ের জন্য ইতিবাচক হতে পারে।
ক্রেডিট কার্ড এবং ব্যক্তিগত ঋণের ক্ষেত্রে আগের মতো চাপ নেই বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খেলাপি ঋণের হার নিয়ন্ত্রণে রাখার দিকেও ব্যাংক বেশ সতর্ক। এই বিষয়গুলো বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে, যদিও তাৎক্ষণিকভাবে বাজারে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
স্বল্পমেয়াদে শেয়ার দামে ওঠানামা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য এক্সিস ব্যাংক এখনও গুরুত্বপূর্ণ একটি নাম। গত কয়েক বছরে ব্যাংকটি শেয়ারহোল্ডারদের ভালো রিটার্ন দিয়েছে, যা অনেকের মনে আস্থা জোগায়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এক্সিস ব্যাংকের শেয়ার পতন মূলত ভবিষ্যৎ আয়ের গতি নিয়ে বাজারের দুশ্চিন্তার প্রতিফলন। মৌলিক দিক থেকে ব্যাংকটি এখনও শক্ত অবস্থানে থাকলেও স্বল্পমেয়াদে কিছুটা চাপ থাকতেই পারে। বিনিয়োগকারীদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আবেগ নয়, বাস্তব পরিস্থিতি বিচার করে সিদ্ধান্ত নেওয়া।












