
Why Gold and Silver Prices Are Soaring Now,Source official website
ভারতীয় বুলিয়ন বাজারে আবারও ইতিহাস তৈরি হচ্ছে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে সোনার দাম এমন উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা আগে কখনও দেখা যায়নি। পাশাপাশি চাঁদের দামও প্রতি কেজিতে ২ লক্ষ রুপি ছাড়িয়ে গিয়ে বাজারে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। উৎসবের মরশুম শেষ হলেও মূল্যবান ধাতুর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমেনি, বরং তা আরও বেড়েছে।
খাঁটি ২৪ ক্যারেট সোনার দর নতুন রেকর্ড ছুঁয়ে সাধারণ ক্রেতাদের কিছুটা চিন্তায় ফেলেছে। গয়না কেনার পরিকল্পনা থাকা বহু মানুষ আপাতত অপেক্ষার পথে হাঁটছেন। ২২ ক্যারেট ও ১৮ ক্যারেট সোনার দামও একইভাবে ঊর্ধ্বমুখী, ফলে মধ্যবিত্ত পরিবারের বাজেটে বাড়তি চাপ পড়ছে। তবুও দীর্ঘদিনের অভ্যাস অনুযায়ী, সোনা এখনও নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চাঁদের বাজারেও একই ছবি। শিল্পক্ষেত্র ও বিনিয়োগ—দুই দিক থেকেই চাহিদা বাড়ায় চাঁদের দাম দ্রুত বেড়েছে। প্রতি কেজিতে দুই লক্ষ রুপির গণ্ডি পেরোনো চাঁদির দাম অনেক ছোট বিনিয়োগকারীর কাছে বিস্ময়কর হলেও, অভিজ্ঞ মহল একে বাজারের স্বাভাবিক প্রবণতা বলেই দেখছেন।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক স্তরে অনিশ্চয়তা, ডলার সূচকের ওঠানামা এবং সুদের হার নিয়ে জল্পনা—সব মিলিয়েই সোনা ও চাঁদের দাম বাড়ছে। যখন শেয়ার বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়, তখন বহু বিনিয়োগকারী স্বাভাবিকভাবেই নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এর ফলেই মূল্যবান ধাতুর দর আরও চড়া হচ্ছে।
দেশের বড় শহরগুলিতে দামের ফারাক থাকলেও সামগ্রিক প্রবণতা এক। দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা বা বেঙ্গালুরু—সব জায়গাতেই সোনা ও চাঁদের দাম উচ্চ স্তরে রয়েছে। স্থানীয় কর ও পরিবহণ খরচের কারণে সামান্য পার্থক্য দেখা গেলেও, রেকর্ড দামের বিষয়টি সর্বত্রই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
বিনিয়োগকারীদের একাংশ মনে করছেন, এই দাম ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। আবার কেউ কেউ সতর্ক হয়ে বলছেন, স্বল্পমেয়াদে মুনাফা তোলার চাপ তৈরি হলে দামে সাময়িক সংশোধন আসতে পারে। তাই নতুন বিনিয়োগের আগে বাজার পরিস্থিতি ভালোভাবে বিচার করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
সাধারণ মানুষের কাছে সোনা ও চাঁদের দাম বাড়া মানে কিছুটা উদ্বেগের কারণ হলেও, দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিতে এই ধাতুগুলির গুরুত্ব এখনও অটুট। আগামী দিনে বৈশ্বিক অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি ও কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির সিদ্ধান্তই ঠিক করবে, এই রেকর্ড দামের যাত্রা আরও কতদূর এগোয়।












