
Dhurandhar Controversy Explained, (Credit: Instagram)
বলিউডে মুক্তির পর থেকেই ‘ধুরন্ধর’ ছবি ঘিরে দর্শক ও সমালোচকদের আগ্রহ তুঙ্গে। রণবীর সিং অভিনীত এই ছবি বক্স অফিসে ভালো পারফরম্যান্স করলেও, গল্পের একটি দিক নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। বিশেষ করে রণবীর সিং ও সহ-অভিনেত্রী সারা অর্জুনের মধ্যে প্রায় ২০ বছরের বয়সের ব্যবধান নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা মত উঠে আসছে।
অনেক দর্শকের প্রশ্ন, এত বড় বয়সের ফারাক থাকা সত্ত্বেও কেন এই জুটিকে বেছে নেওয়া হলো। এই বিতর্কের মাঝেই ছবির নির্মাতা বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তাঁর মতে, ‘ধুরন্ধর’ কোনও হালকা বিনোদনমূলক ছবি নয়, বরং এটি চরিত্রনির্ভর ও মানসিক স্তরের গল্প, যেখানে বয়স একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
পরিচালক জানান, রণবীর সিংয়ের চরিত্রটি এমন একজন মানুষের, যিনি জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, ভুল ও সংঘাতের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছেন। তাঁর মানসিক জটিলতা ও পরিণত দৃষ্টিভঙ্গি গল্পের চালিকাশক্তি। এই চরিত্রের বিপরীতে সারা অর্জুনের উপস্থিতি গল্পে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে, যা বয়সের ব্যবধান ছাড়া বিশ্বাসযোগ্য হতো না।
তিনি আরও বলেন, বাস্তব জীবনেও এমন সম্পর্ক বা সংযোগ দেখা যায়, যেখানে বয়সের পার্থক্য থাকলেও আবেগ ও পরিস্থিতি মানুষকে কাছাকাছি নিয়ে আসে। সিনেমা সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন। শুধু বয়সের সংখ্যার দিকে তাকিয়ে গল্পের গভীরতা বিচার করা ঠিক নয় বলেই তাঁর মত।
এই ছবির প্রথম পর্বে অনেক বিষয় ইচ্ছাকৃতভাবে রহস্যের আড়ালে রাখা হয়েছে। নির্মাতারা চান দর্শক ধীরে ধীরে চরিত্রগুলোর মানসিক স্তর বুঝুন। তাই দ্বিতীয় পর্বে গল্প আরও বিস্তৃত হবে এবং চরিত্রদের অতীত, সিদ্ধান্ত ও সম্পর্কের কারণ স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হবে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
অভিনয়ের দিক থেকেও ‘ধুরন্ধর’ রণবীর সিংয়ের কেরিয়ারে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন বলে মনে করছেন অনেকে। তাঁর অভিনয়ে এক ধরনের সংযম ও গভীরতা দেখা যাচ্ছে, যা দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে সক্ষম। একইভাবে, অল্প বয়স হলেও সারা অর্জুনের অভিনয়ের পরিণত ভাব প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে ‘ধুরন্ধর’ কেবল একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং বর্তমান সময়ের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি, সম্পর্কের জটিলতা ও বাস্তবতাকে তুলে ধরা এক সাহসী প্রয়াস। বিতর্ক থাকলেও নির্মাতারা বিশ্বাসী, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দর্শক গল্পের উদ্দেশ্য বুঝতে পারবেন এবং আগামী পর্ব সেই অভিজ্ঞতাকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।












