
Severe Air Pollution Grips Delhi-NCR,Source: social media
দিল্লি ও সংলগ্ন এনসিআর অঞ্চলে ফের একবার ভয়াবহ স্মগ ও ঘন কুয়াশা জনজীবনকে চরমভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। ভোরের দিকেই দৃশ্যমানতা এতটাই কমে যায় যে রাস্তাঘাটে চলাচল কার্যত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বাতাসে ক্ষতিকর কণার মাত্রা বিপজ্জনক স্তরে পৌঁছনোয় সাধারণ মানুষ শ্বাসকষ্ট ও চোখ জ্বালার মতো সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন।
এই দূষণ পরিস্থিতির প্রভাব সরাসরি পড়েছে আকাশপথে। দিল্লির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একের পর এক ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বিত হয়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে অনেক বিমান নির্ধারিত সময়মতো ওঠানামা করতে পারেনি, ফলে যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষা ও ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। বহু যাত্রী বিমানবন্দরেই আটকে পড়েন।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরেও বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সংসদে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর এই পরিবেশগত সংকট দেশের ভাবমূর্তির ওপরও প্রভাব ফেলছে বলে বিরোধী দলগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ঘন কুয়াশার জেরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্ধারিত সফর সূচিও প্রভাবিত হয়। তাঁর বিমান ছাড়তে দেরি হওয়ায় সরকারি কার্যক্রমে সাময়িক পরিবর্তন আনতে হয়। এই ঘটনা পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে, কারণ যখন দেশের শীর্ষ নেতৃত্বও সমস্যায় পড়ছেন, তখন সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কতটা গভীর তা সহজেই অনুমেয়।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন বিমান সংস্থা যাত্রীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। যাত্রীদের ফ্লাইটের সময়সূচি আগেভাগে যাচাই করার পাশাপাশি বিমানবন্দরে বাড়তি সময় নিয়ে পৌঁছনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পরিবেশবিদদের মতে, শীতকালীন আবহাওয়া, স্থির বাতাস, যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণ কাজের ধুলো এবং পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোর কৃষিজ আগুন—সব মিলিয়েই এই ভয়াবহ স্মগ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসযন্ত্রের রোগীদের জন্য এই দূষণ মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যানের আওতায় একাধিক কড়া পদক্ষেপ কার্যকর করেছে। নির্মাণ কাজ সীমিত করা, দূষণকারী যানবাহনের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং শিল্পক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবুও রাজধানীবাসীর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে এখনও সময় লাগবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।












