
Security Tightened After Bomb Scare in Ahmedabad Schools,Source: social media
আহমেদাবাদে হঠাৎ করে তিনটি নামী স্কুলে বোমা হামলার হুমকি সংক্রান্ত ইমেইল পৌঁছানোয় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্কুল কর্তৃপক্ষ ইমেইল পাওয়ার পর কোনো ঝুঁকি না নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে বিষয়টি জানায়। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাই যে প্রথম অগ্রাধিকার, তা স্পষ্ট করে প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। সকাল থেকেই ওই স্কুলগুলোর আশপাশে বাড়ানো হয় নজরদারি এবং এলাকাজুড়ে দেখা যায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একই ধরনের ভাষায় লেখা হুমকিমূলক ইমেইল তিনটি স্কুলে পাঠানো হয়েছিল। ইমেইলের বিষয়বস্তু ছিল ভয় ধরানো এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আতঙ্ক সৃষ্টি করা। খবর পেয়ে পুলিশের বম্ব স্কোয়াড, ডগ স্কোয়াড এবং স্থানীয় থানার আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। স্কুল চত্বর, শ্রেণিকক্ষ এবং আশপাশের এলাকা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি করা হয়।
নিরাপত্তার স্বার্থে স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। অনেক স্কুলে ক্লাস সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। শিক্ষকরা শান্তভাবে শিশুদের পরিচালনা করেন, যাতে তারা আতঙ্কিত না হয়ে পড়ে। অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতির কথা জানানো হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সন্তানদের নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
হঠাৎ এই ঘটনার জেরে বহু অভিভাবকের মধ্যেই উদ্বেগ দেখা দেয়। অনেকে কাজ ফেলে ছুটে আসেন স্কুলে। একজন অভিভাবক জানান, এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। তবে তিনি স্কুল ও পুলিশের সমন্বিত ভূমিকার প্রশংসা করেন, কারণ পুরো প্রক্রিয়াটি শৃঙ্খলার সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে কোনো বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি। ফলে এটিকে ভুয়ো হুমকি বলেই প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। তবে প্রশাসন বিষয়টিকে হালকাভাবে নিচ্ছে না। সাইবার বিশেষজ্ঞরা ইমেইলের উৎস শনাক্ত করার কাজ শুরু করেছেন এবং প্রযুক্তিগত দিক থেকে প্রতিটি তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন শহরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে এই ধরনের ভুয়ো হুমকির ঘটনা বেড়েছে। প্রশাসনের মতে, উদ্দেশ্য একটাই—সাধারণ মানুষের মনে ভয় তৈরি করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থির করা। তাই প্রতিটি ঘটনায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
পুলিশ ও প্রশাসন সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে। পাশাপাশি অনুরোধ করা হয়েছে, কোনো গুজবে কান না দিতে এবং সন্দেহজনক কিছু নজরে এলে সঙ্গে সঙ্গে কর্তৃপক্ষকে জানাতে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন যে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে, তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।












