
New Education Model for Primary Students,Source: social media
প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চলেছে শিক্ষা দপ্তর। শিশুদের ভবিষ্যতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নিতে পাঠ্যক্রমে নতুন চিন্তাভাবনা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা মুখস্থ নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার বদলে এবার গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বোঝাপড়া, বাস্তব দক্ষতা ও চিন্তাশক্তি বিকাশে। এই পরিবর্তন প্রাথমিক স্তরের পড়াশোনাকে আরও আধুনিক ও প্রাসঙ্গিক করে তুলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নতুন পাঠ্যক্রমে প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞানকে ধীরে ধীরে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। খুব সহজ ও শিশু-বান্ধব পদ্ধতিতে আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হবে, যাতে পড়াশোনা ভয়ের বিষয় না হয়ে ওঠে। পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শেখার আনন্দ বজায় রাখাই এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে। এতে শিশুদের কৌতূহল ও সৃজনশীলতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
শুধু পাঠ্যবই নয়, মূল্যায়ন ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আসতে চলেছে। বার্ষিক পরীক্ষার চাপ কমিয়ে সেমিস্টার ভিত্তিক মূল্যায়ন চালুর ভাবনা রয়েছে। বছরে একাধিক ধাপে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি যাচাই করা হলে পড়াশোনার প্রতি ভয় কমবে এবং নিয়মিত শেখার অভ্যাস গড়ে উঠবে। এতে ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের দুর্বলতা সহজেই বুঝে তা সংশোধনের সুযোগ পাবে।
নতুন ব্যবস্থায় শুধুমাত্র লিখিত পরীক্ষার উপর নির্ভর না করে উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষের কাজ ও আচরণকেও মূল্যায়নের অংশ করা হবে। ফলে পড়াশোনার পাশাপাশি শৃঙ্খলা, দলগত কাজ ও আত্মবিশ্বাসের মতো গুণগুলিও গুরুত্ব পাবে। শিক্ষা আরও জীবনের কাছাকাছি হয়ে উঠবে বলেই মনে করছেন শিক্ষাবিদদের একাংশ।
এই পরিবর্তন নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, শিশুদের মানসিক চাপ কমবে এবং শেখার পরিবেশ আরও স্বাভাবিক হবে। আবার কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, নতুন পদ্ধতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে শুরুতে সমস্যা হতে পারে। তবে ধাপে ধাপে এই পরিবর্তন কার্যকর হলে পরিস্থিতি সহজ হবে বলেই মত তাঁদের।
শিক্ষকদের ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন পাঠ্যক্রম ও মূল্যায়ন পদ্ধতি সফল করতে প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষকরা যদি বিষয়টি ভালোভাবে আত্মস্থ করতে পারেন, তাহলে শিক্ষার্থীরাও উপকৃত হবে। এজন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির কথাও ভাবা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে এই পরিবর্তন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও আত্মবিশ্বাসী ও দক্ষ করে তুলতে সাহায্য করবে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থার এই রূপান্তর শিশুদের শেখার অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলেই আশা করা হচ্ছে।












