
Why Gold Rates Remain Elevated in Indian Markets,Source: social media
ভারতীয় বাজারে সোনার দাম বর্তমানে বেশ চড়া অবস্থায় রয়েছে এবং এই পরিস্থিতির পেছনে একাধিক দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কারণ কাজ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে রুপির মান ডলারের তুলনায় দুর্বল হওয়ায় আমদানিনির্ভর এই মূল্যবান ধাতুর খরচ স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, যা বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদের দিকে আরও বেশি ঝুঁকতে বাধ্য করছে।
রুপির দুর্বলতা সরাসরি সোনার দামে প্রভাব ফেলছে। যেহেতু আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ডলারে নির্ধারিত হয়, তাই রুপি কমলে একই পরিমাণ সোনা আমদানি করতে বেশি টাকা গুনতে হয়। এই অতিরিক্ত খরচ শেষ পর্যন্ত দেশের বাজারে দামের উপর চাপ সৃষ্টি করে। ফলে আন্তর্জাতিক দামে বড় পরিবর্তন না থাকলেও ভারতীয় বাজারে দাম তুলনামূলকভাবে বেশি থাকছে।
বিশ্ববাজারের দিকেও তাকালে দেখা যাচ্ছে, সোনার প্রতি আগ্রহ এখনও কমেনি। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ ঘিরে ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন, বড় অর্থনীতিগুলির মুদ্রানীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং শেয়ারবাজারের ওঠানামা বিনিয়োগকারীদের সোনার মতো নিরাপদ সম্পদের দিকে আকৃষ্ট করছে। এই বৈশ্বিক প্রবণতার প্রভাব ভারতের বাজারেও পড়ছে।
উচ্চ দাম সত্ত্বেও দেশে সোনার চাহিদা পুরোপুরি কমে যায়নি। বিয়ে ও উৎসবের মরশুম সামনে থাকায় গয়নার বাজারে ধীরে ধীরে ক্রেতার আনাগোনা বাড়ছে। অনেকেই দামের ঊর্ধ্বগতির আশঙ্কায় আগেভাগেই কেনাকাটা সেরে নিতে চাইছেন, যাতে ভবিষ্যতে আরও বেশি দাম দিতে না হয়।
তবে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এই দাম কিছুটা চাপেরও বটে। গয়না কেনার ক্ষেত্রে অনেকেই ওজন কমিয়ে ডিজাইনের দিকে ঝুঁকছেন। অন্যদিকে বিনিয়োগকারীরা সরাসরি গয়নার বদলে ডিজিটাল গোল্ড বা গোল্ড বন্ডের মতো বিকল্পের কথাও ভাবছেন, যাতে সংরক্ষণ খরচ ও ঝুঁকি কম থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে সোনার দামের গতি অনেকটাই নির্ভর করবে রুপির চলন, আন্তর্জাতিক সুদের হার এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর। যদি ডলার শক্তিশালী থাকে এবং রুপি আরও দুর্বল হয়, তাহলে দেশে সোনার দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছনোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে সোনা আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। একদিকে এটি নিরাপদ বিনিয়োগের প্রতীক, অন্যদিকে চড়া দাম সাধারণ ক্রেতাদের ভাবনায় ফেলছে। তবুও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে সোনার প্রতি মানুষের আস্থা যে এখনও অটুট, তা স্পষ্টভাবেই বোঝা যাচ্ছে।












