
Industry and Jobs Debate Heats Up in Bengal,Photo Credit: PTI
পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি সম্প্রতি একটি বিস্তৃত রিপোর্ট প্রকাশ করে রাজ্যের শিল্প পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছে। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে পশ্চিমবঙ্গ ধীরে ধীরে শিল্পক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্রমশ কমেছে। বিজেপির মতে, এক সময় যে রাজ্য শিল্প উন্নয়নের অন্যতম কেন্দ্র ছিল, তা এখন কার্যত শিল্পের দিক থেকে স্থবির অবস্থায় পৌঁছেছে।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে রাজ্যে নতুন বড় শিল্প প্রকল্প গড়ে ওঠার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বহু পুরনো শিল্প সংস্থা কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে বা অন্য রাজ্যে চলে গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, শিল্পবান্ধব পরিবেশের অভাব, প্রশাসনিক জটিলতা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্য সরকার বারবার শিল্প সম্মেলন ও বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরলেও বাস্তবে তার খুব কম অংশই কার্যকর হয়েছে। কাগজে-কলমে চুক্তি স্বাক্ষর হলেও প্রকৃত উৎপাদন, কারখানা স্থাপন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিক ও যুবসমাজ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কর্মসংস্থানের অভাবে বহু তরুণ অন্য রাজ্যে পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছে। বিজেপির মতে, রাজ্যের বেকারত্ব সমস্যার সঙ্গে শিল্প-পতনের সরাসরি যোগ রয়েছে এবং এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত থেকে গেছে।
তবে এই অভিযোগগুলিকে সম্পূর্ণভাবে নাকচ করেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি, রাজ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিষেবা খাত ও ক্ষুদ্র শিল্পে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের মতে, বিরোধীরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে শিল্প পরিস্থিতিকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই রিপোর্ট মূলত আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তৈরি করা হয়েছে। শিল্প, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের মতো বিষয়গুলি ভোট রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, ফলে দুই পক্ষই এই ইস্যুকে নিজেদের পক্ষে কাজে লাগাতে চাইছে।
সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক তরজা আরও জোরালো হয়েছে। একদিকে বিরোধীরা সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলছে, অন্যদিকে শাসক দল উন্নয়নের দাবি করছে। বাস্তবে রাজ্যের শিল্প ও কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল ও উদ্বেগ দুটোই বাড়ছে।












