
IT Department Says Transaction Messages Are Not Notices,Source: social media
নতুন করে বহু করদাতার কাছে আয়কর দফতরের পক্ষ থেকে লেনদেন সংক্রান্ত ইমেল ও এসএমএস পৌঁছানোয় স্বাভাবিকভাবেই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। অনেকেই ভেবেছেন এটি বুঝি কোনো নোটিশ বা জরিমানার পূর্বাভাস। তবে আয়কর বিভাগ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই যোগাযোগের উদ্দেশ্য করদাতাদের ভয় দেখানো নয়, বরং তাদের আয়কর রিটার্ন আরও সঠিকভাবে যাচাই ও সংশোধনে সহায়তা করা।
আয়কর দফতরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই বার্তাগুলি পাঠানো হয়েছে বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া লেনদেনের তথ্যের ভিত্তিতে। ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য রিপোর্টিং সংস্থার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সঙ্গে করদাতার দাখিল করা রিটার্নে যদি অমিল দেখা যায়, তখনই এমন যোগাযোগ করা হচ্ছে। অর্থাৎ এটি একটি তথ্যভিত্তিক সতর্কতা, কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নয়।
দফতর জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য করদাতাদের বার্ষিক তথ্য বিবরণী বা এআইএস (AIS) খতিয়ে দেখার সুযোগ করে দেওয়া। অনেক সময় করদাতারা অজান্তেই কোনো আয়ের তথ্য বাদ দিয়ে দেন বা ভুলভাবে উল্লেখ করেন। এই ধরনের বার্তার মাধ্যমে সেই ভুলগুলো চিহ্নিত করে স্বেচ্ছায় সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
যারা ইতোমধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন, তারা চাইলে সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করতে পারেন। আবার যাঁরা সময়মতো রিটার্ন ফাইল করতে পারেননি, তাঁদের জন্যও বেলারেট রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আয়কর বিভাগ মনে করছে, এতে করদাতারা ভবিষ্যতের জটিলতা ও অপ্রয়োজনীয় তদন্ত এড়াতে পারবেন।
দফতরের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, যদি কারও রিটার্ন এবং লেনদেন সংক্রান্ত তথ্যের মধ্যে কোনো অসামঞ্জস্য না থাকে, তবে এই বার্তা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। সে ক্ষেত্রে করদাতারা চাইলে বিষয়টি উপেক্ষাও করতে পারেন। তবে কোনো অমিল থাকলে দ্রুত অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানানোই বুদ্ধিমানের কাজ।
সাম্প্রতিক সময়ে সম্পত্তি কেনাবেচা, বড় অঙ্কের ব্যাংক লেনদেন, বিদেশি সম্পদ বা বিনিয়োগ সংক্রান্ত তথ্যের কারণে অনেক করদাতা এই ধরনের যোগাযোগ পাচ্ছেন। আয়কর বিভাগ জোর দিয়ে বলেছে, এগুলি কোনো অভিযোগপত্র নয়, বরং আগাম সতর্কতা হিসেবে দেখা উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আয়কর বিভাগ কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। করদাতাদেরও উচিত নিয়মিত নিজেদের আর্থিক তথ্য যাচাই করা এবং সঠিকভাবে রিটার্ন দাখিল করা। এতে একদিকে যেমন আইনি ঝুঁকি কমবে, তেমনই কর ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও বাড়বে।












