আজকের দিনে অনেক গৃহিণী ও দক্ষ রাঁধুনি নিজেদের রান্নার গুণকে কাজে লাগিয়ে আয় করতে চান। কিন্তু আলাদা করে রেস্টুরেন্ট খোলা, ভাড়া নেওয়া বা বড় বিনিয়োগ করা সবার পক্ষে সম্ভব হয় না। এই জায়গায় Zomato একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে, যেখানে ঘরে বসে রান্না করেও খাবার বিক্রি করা যায় এবং নিয়মিত আয় করা সম্ভব।
ঠিকভাবে পরিকল্পনা করলে এটি হতে পারে সংসারের পাশাপাশি একটি ভালো আয়ের পথ।
প্রথম ধাপ: কী ধরনের খাবার বিক্রি করবেন তা ঠিক করুন
শুরুতেই ভাবুন আপনি কোন খাবার সবচেয়ে ভালো রান্না করতে পারেন। যেমন—
- ঘরোয়া বাঙালি খাবার
- দুপুরের টিফিন বা ডিনার মিল
- নিরামিষ বা হালকা খাবার
- হোমমেড মিষ্টি বা বিশেষ পদ
শুরুর দিকে অল্প কয়েকটি আইটেম রাখাই ভালো। এতে কাজ সামলানো সহজ হয় এবং মান বজায় রাখা যায়।
দ্বিতীয় ধাপ: Zomato-তে পার্টনার হিসেবে নাম লেখান
খাবার বিক্রি করতে হলে আপনাকে Zomato-র পার্টনার হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এখানে বড় দোকান থাকা বাধ্যতামূলক নয়। হোম কিচেন হিসেবেও কাজ শুরু করা যায়।
রেজিস্ট্রেশনের সময় সাধারণত লাগে—
- নিজের নাম ও মোবাইল নম্বর
- রান্নাঘরের ঠিকানা
- রান্নার ধরন
- ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য
তৃতীয় ধাপ: প্রয়োজনীয় তথ্য ও ছবি জমা দিন
Zomato আপনার রান্নাঘর ও কাজের জায়গা যাচাই করতে পারে। এজন্য রান্নাঘরের পরিষ্কার ছবি, পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য এবং ব্যাংক ডিটেইলস দিতে হতে পারে। সবকিছু ঠিক থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই অনুমোদন পাওয়া যায়।
চতুর্থ ধাপ: নিজের মেনু তৈরি ও আপলোড করুন
অনুমোদনের পর আপনি নিজের খাবারের মেনু যোগ করতে পারবেন। এখানে দিতে হবে—
- খাবারের নাম
- দাম
- ছোট করে বর্ণনা
- পরিষ্কার ও আকর্ষণীয় ছবি
ভালো ছবি ও সঠিক দাম গ্রাহকের আগ্রহ বাড়ায়।
পঞ্চম ধাপ: অর্ডার এলে রান্না ও প্রস্তুতি
অর্ডার এলে নোটিফিকেশন পাওয়া যাবে। সময়মতো পরিষ্কারভাবে রান্না করে খাবার প্রস্তুত করতে হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ডেলিভারির দায়িত্ব Zomato-র ডেলিভারি পার্টনাররাই নেয়।
ষষ্ঠ ধাপ: টাকা পাওয়ার প্রক্রিয়া
গ্রাহক খাবার পাওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়। প্রতিটি অর্ডারের হিসাব সহজেই দেখা যায়।
ভালো আয় করার জন্য কিছু টিপস
- সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন
- খাবারের স্বাদ ও মান একরকম রাখুন
- সময়মতো অর্ডার প্রস্তুত করুন
- ভালো রিভিউ পেলে অর্ডার বাড়ে
উপসংহার
Zomato গৃহিণী ও ঘরে বসে রান্না করা রাঁধুনিদের জন্য আয়ের একটি বাস্তব সুযোগ তৈরি করেছে। অল্প প্রস্তুতি, সঠিক পরিকল্পনা এবং দায়িত্ব নিয়ে কাজ করলে ঘরে বসেই সম্মানজনক আয় করা সম্ভব। যারা নিজের রান্নার দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হতে চান, তাদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি কার্যকর ও আধুনিক পথ।













