
Dhurandhar Marches Toward ₹1000 Crore Milestone, (Photo: Movie still/ India Today)
হিন্দি সিনেমার সাম্প্রতিক ইতিহাসে ধুরন্ধর যেন এক অপ্রত্যাশিত ঝড়ের নাম। মুক্তির পর থেকেই ছবিটি ধীরে নয়, বরং দাপটের সঙ্গেই বক্স অফিসে এগিয়ে চলেছে। প্রাথমিক সপ্তাহেই যে গতিতে আয় বেড়েছে, তাতে ট্রেড মহলে একটাই প্রশ্ন—এই ছবি কি সত্যিই ১,০০০ কোটির মাইলফলক ছুঁতে চলেছে?
এই সাফল্যের সবচেয়ে বড় দিক হলো, ধুরন্ধর কোনো পরিচিত ফ্র্যাঞ্চাইজি নয় কিংবা সহজ বিনোদনের ফর্মুলায় বাঁধা ছবি নয়। দীর্ঘ দৈর্ঘ্য, গম্ভীর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং জটিল চরিত্র থাকা সত্ত্বেও দর্শকরা প্রেক্ষাগৃহে ভিড় জমিয়েছেন। মুখে মুখে প্রচারই হয়ে উঠেছে ছবিটির আসল শক্তি।
বক্স অফিস পরিসংখ্যান বলছে, দেশীয় বাজারেই ছবিটি অল্প সময়ের মধ্যে শত শত কোটি টাকা আয় করেছে। শুধু শহুরে মাল্টিপ্লেক্স নয়, একক পর্দার হলগুলিতেও ছবির চাহিদা চোখে পড়ার মতো। আন্তর্জাতিক বাজার থেকেও এসেছে শক্তিশালী সাড়া, যা ছবির মোট আয়কে আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
এই ছবির সাফল্য অভিনেতাদের কেরিয়ার গ্রাফেও বড় প্রভাব ফেলেছে। মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেতা দীর্ঘদিন পর আবারও বাণিজ্যিক সাফল্যের শিরোনামে ফিরেছেন। পাশাপাশি সহ-অভিনেতা ও নতুন মুখদের অভিনয়ও দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
ধুরন্ধর শুধু ব্যবসার অঙ্কেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে এর বিষয়বস্তুও। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, ক্ষমতার লড়াই এবং নৈতিক দ্বন্দ্ব ছবিটিকে সাধারণ অ্যাকশন ড্রামা থেকে আলাদা করেছে। অনেক দর্শকই বলছেন, এমন সাহসী গল্প তারা দীর্ঘদিন পর বড় পর্দায় দেখলেন।
চলচ্চিত্র বাণিজ্যের বিশ্লেষকদের মতে, এই ছবির সাফল্য হিন্দি সিনেমার ধারা বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফর্মুলা নির্ভর ছবির বাইরে গিয়ে এখন নির্মাতারা ভাবতে পারবেন নতুন গল্প, নতুন ভঙ্গি নিয়ে। দর্শকরাও যে সেই পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত, তা স্পষ্ট।
সব মিলিয়ে, ধুরন্ধর একটি সিনেমার চেয়ে অনেক বেশি কিছু হয়ে উঠেছে। এটি প্রমাণ করেছে যে শক্ত গল্প, দৃঢ় নির্মাণ এবং বিশ্বাসযোগ্য অভিনয় থাকলে দর্শক অবশ্যই সাড়া দেয়। ১,০০০ কোটির গন্তব্যে পৌঁছাক বা না পৌঁছাক, এই ছবি ইতিমধ্যেই হিন্দি সিনেমার নতুন অধ্যায় লিখে ফেলেছে।












