
From India to Australia: Nikhil Chaudhary’s Cricket Journey,Source: social media
নিখিল চৌধুরীর ক্রিকেট যাত্রা ঠিক সেই সব গল্পের মতো, যেখানে প্রতিভার সঙ্গে জেদ, ধৈর্য আর ভাগ্যের অদ্ভুত মোড় একসঙ্গে মিশে থাকে। দিল্লিতে জন্ম নেওয়া এই অলরাউন্ডার ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে পঞ্জাবের হয়ে খেললেও বড় মঞ্চে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ খুব একটা পাননি। ব্যাট ও বল—দুটোতেই দক্ষতা থাকলেও প্রতিযোগিতার ভিড়ে তার পথ সহজ ছিল না। তবুও ক্রিকেট ছাড়ার কথা কখনও ভাবেননি তিনি।
২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় নিখিল ব্যক্তিগত কারণে অস্ট্রেলিয়ায় যান। হঠাৎ করে সীমান্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি বদলে যায়, আর সেই অচেনা দেশেই নতুন করে জীবন গড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। শুরুটা ছিল কঠিন—দিনে কাজ, রাতে অনুশীলন। কখনও রেস্টুরেন্টে কাজ, কখনও ডেলিভারি—সবই চলেছে ক্রিকেটের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে। এই সময়টাই তার মানসিক শক্তির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা নেয়।
অস্ট্রেলিয়ার ক্লাব ক্রিকেটে নিয়মিত ভালো পারফরম্যান্স ধীরে ধীরে তাকে পরিচিত করে তোলে। ব্রিসবেনের স্থানীয় লিগে ধারাবাহিক রান আর কার্যকর বোলিং নজর কাড়ে নির্বাচকদের। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বড় সুযোগ পান এবং বিগ ব্যাশ লিগে হোবার্ট হ্যারিকেন্সের হয়ে খেলার ডাক আসে। এই মুহূর্তটাই তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
বিগ ব্যাশে নিজের প্রথম মরসুমেই নিখিল দেখান তিনি শুধু সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। নিচের দিকে নেমে ঝোড়ো রান, মাঝেমাঝে গুরুত্বপূর্ণ ওভার—দলের প্রয়োজনে নিজেকে মেলে ধরেন বারবার। তার ব্যাটিংয়ে যেমন সাহসী শটের ছাপ, তেমনি বোলিংয়ে ছিল নিয়ন্ত্রণ আর বৈচিত্র্য। দর্শকদের মধ্যেও দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি।
হোবার্ট হ্যারিকেন্স তার উপর আস্থা রেখে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ করে নেয়। শুধু টি-টোয়েন্টিতেই নয়, ধীরে ধীরে অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া লাল বলের ক্রিকেটেও জায়গা করে নেন নিখিল। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে একটি বড় ইনিংস তার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয় এবং প্রমাণ করে, তিনি যে কোনো ফরম্যাটে মানিয়ে নিতে পারেন।
ভারতীয় ক্রিকেট থেকে অস্ট্রেলিয়ার পেশাদার কাঠামোয় মানিয়ে নেওয়া সহজ কাজ নয়। ভিন্ন পিচ, ভিন্ন সংস্কৃতি, ভিন্ন প্রত্যাশা—সব কিছুর সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে হয়েছে তাকে। কিন্তু নিখিল চৌধুরী সেই চ্যালেঞ্জকেই নিজের শক্তিতে বদলে ফেলেছেন। প্রতিটি ম্যাচ তার শেখার জায়গা হয়ে উঠেছে।
নিখিলের গল্প শুধু এক ক্রিকেটারের উত্থান নয়, বরং সাহসী সিদ্ধান্তের প্রতিফলন। সুযোগ না পেলে নতুন পথ তৈরি করতে হয়—এই বার্তাই তিনি দিয়ে চলেছেন। আজ অস্ট্রেলিয়ার মাঠে তার লড়াই অনেক তরুণ ক্রিকেটারের কাছেই অনুপ্রেরণা, যারা বিশ্বাস করে কঠোর পরিশ্রম কখনও বিফলে যায় না।












