
LIC Employees Protest Against 100% FDI in Insurance Sector,Source: social media
চেন্নাইয়ের রাস্তায় আবারও প্রতিবাদের ছবি দেখা গেল। কেন্দ্র সরকারের বীমা ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগের অনুমোদনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হলেন লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন বা এলআইসি-র কর্মীরা। তামিলনাড়ুর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কর্মী ও ইউনিয়ন সদস্যরা একত্রিত হয়ে এই সিদ্ধান্তকে “জাতীয় স্বার্থবিরোধী” বলে আখ্যা দেন।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, বীমা খাত দীর্ঘদিন ধরে দেশের সাধারণ মানুষের সুরক্ষার সঙ্গে যুক্ত। এলআইসি শুধুমাত্র একটি সংস্থা নয়, বরং কোটি কোটি গ্রাহকের বিশ্বাসের প্রতীক। এই অবস্থায় সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানার দরজা খুলে দিলে সরকারি বীমা সংস্থার ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে পড়বে বলে তাদের আশঙ্কা।
কর্মী সংগঠনগুলির দাবি, ধাপে ধাপে বীমা ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগের সীমা বাড়ানো হয়েছে। প্রথমে ২৬ শতাংশ, পরে ৪৯ শতাংশ, তার পর ৭৪ শতাংশ এবং এখন ১০০ শতাংশ। এই ধারাবাহিক পরিবর্তনের ফলে দেশীয় সংস্থাগুলির উপর চাপ বাড়ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থানের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা মনে করছেন।
ইউনিয়ন নেতারা জানান, নতুন নিয়ম অনুযায়ী বিদেশি সংস্থাগুলি কোনও ভারতীয় অংশীদার ছাড়াই সরাসরি বাজারে প্রবেশ করতে পারবে। এর ফলে লাভজনক শহুরে বাজারে তাদের আধিপত্য তৈরি হবে, কিন্তু গ্রামীণ ও সামাজিক বীমা প্রকল্প উপেক্ষিত থেকে যাবে। এতে সামাজিক সুরক্ষার মূল ধারণাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কর্মীরা আরও বলেন, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কর্মী সংগঠন বা সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়া হয়নি। সংসদে আলোচনা সীমিত রেখেই দ্রুত বিল পাশ করানো হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়। তাদের মতে, এত বড় নীতিগত পরিবর্তনে সর্বস্তরের মতামত জরুরি ছিল।
এলআইসি কর্মীদের একাংশের বক্তব্য, বিদেশি কোম্পানির মূল লক্ষ্য মুনাফা। ফলে প্রিমিয়াম বৃদ্ধি, পরিষেবায় কাটছাঁট এবং চাকরির নিরাপত্তা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এতে সাধারণ গ্রাহকরাই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
প্রতিবাদকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের দাবি না মানা হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হবে। শুধু তামিলনাড়ু নয়, দেশের অন্যান্য রাজ্যেও এলআইসি কর্মীরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পথে নামতে পারেন। বীমা ক্ষেত্রের ভবিষ্যৎ ও জনস্বার্থ রক্ষার লড়াই এখন আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।












