
Gold Price Forecast 2026: Strong Upside Expected,Source: social media
বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার আবহে স্বর্ণ আবারও বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালে স্বর্ণের দামে বড়সড় উত্থান দেখা যেতে পারে। মুদ্রাস্ফীতি, ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলির নীতিগত পরিবর্তন মিলিয়ে স্বর্ণকে আবার নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বেছে নিচ্ছেন বহু মানুষ।
গত কয়েক বছরে স্বর্ণের দাম ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে, তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা আগামী বছর এই বৃদ্ধির গতি আরও জোরালো হতে পারে। সুদের হার কমার সম্ভাবনা, ডলারের শক্তি কিছুটা দুর্বল হওয়া এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ স্বর্ণের চাহিদা বাড়াতে পারে বলে মত বাজার পর্যবেক্ষকদের।
রূপার সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে রূপার দাম দ্রুত বেড়েছে। এর ফলে স্বর্ণ ও রূপার দামের অনুপাত বদলেছে, যা অনেক বিনিয়োগকারীর নজর কেড়েছে। এই ব্যবধান কমাতে স্বর্ণের দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলির স্বর্ণ কেনার প্রবণতাও দামের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। বিভিন্ন দেশ তাদের বৈদেশিক মুদ্রা ভান্ডারকে আরও সুরক্ষিত করতে স্বর্ণের মজুত বাড়াচ্ছে। এর ফলে বাজারে সরবরাহ তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকছে, যা দামের ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি করছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক তথ্য, বিশেষ করে মুদ্রাস্ফীতি ও কর্মসংস্থানের পরিসংখ্যান, স্বর্ণবাজারে বড় ভূমিকা রাখছে। সুদের হার কমলে স্বর্ণে বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়ে, কারণ তখন সুদভিত্তিক সম্পদের আকর্ষণ কমে যায়। এই কারণেই ২০২৬ সালকে স্বর্ণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বছর হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতাও স্বর্ণের দামের পক্ষে কাজ করছে। যুদ্ধ, বাণিজ্য সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের সময় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিমুক্ত সম্পদের দিকে ঝোঁকেন। স্বর্ণ সেই তালিকার শীর্ষে থাকায় এর চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে।
ভারতীয় বাজারেও এই প্রবণতার প্রভাব পড়তে পারে। বিয়ে ও উৎসবের মরসুমে স্বর্ণের চাহিদা বরাবরই বেশি থাকে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে দেশীয় বাজারেও তার প্রতিফলন দেখা যাবে। সব মিলিয়ে, ২০২৬ সাল স্বর্ণের জন্য একটি সম্ভাবনাময় বছর হতে চলেছে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।












