
Bad Weather Alters PM Modi’s West Bengal Programme,Source: social media
ঘন কুয়াশার কারণে এক অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মুখে পড়ে প্রধানমন্ত্রীর পশ্চিমবঙ্গ সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি বদলে যায়। শুক্রবার সকালে নদিয়া জেলার তাহেরপুরে একটি রাজনৈতিক জনসভায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। তবে আবহাওয়ার অবনতি এবং দৃশ্যমানতা অত্যন্ত কমে যাওয়ায় তাঁর হেলিকপ্টার নিরাপদে নামতে পারেনি। ফলে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদল করে হেলিকপ্টারটি কলকাতার দিকে ফিরে যায়।
এই ঘটনার ফলে সভাস্থলে সরাসরি উপস্থিত না থাকতে পারলেও প্রধানমন্ত্রী সমর্থকদের উদ্দেশে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ভাষণ দেন। নিজের বক্তব্যের শুরুতেই তিনি আবহাওয়ার কারণে আসতে না পারার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন এবং সভায় উপস্থিত মানুষের ধৈর্য ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। প্রযুক্তির সাহায্যে সভাটি সম্পন্ন হওয়ায় কর্মসূচি পুরোপুরি বাতিল না হওয়ায় আয়োজকেরা স্বস্তি প্রকাশ করেন।
ভার্চুয়াল ভাষণে প্রধানমন্ত্রী রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কড়া মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যে প্রশাসনিক দুর্বলতা ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসছে, তা সাধারণ মানুষের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাঁর বক্তব্যে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে উঠে আসে।
তিনি আরও দাবি করেন, কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের চিত্র বদলাতে পারে। তাঁর মতে, একটি স্থিতিশীল ও স্বচ্ছ প্রশাসনই রাজ্যের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। এই প্রসঙ্গে তিনি আগামী বিধানসভা নির্বাচনের কথাও উল্লেখ করেন।
সভায় উপস্থিত কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মানুষের আশার প্রতিফলন ঘটাতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সৎ নেতৃত্ব জরুরি। তিনি রাজ্যের যুবসমাজ ও কৃষকদের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বলেন, কেন্দ্র রাজ্যের পাশে থাকতে প্রস্তুত।
ঘন কুয়াশার কারণে এই সফর আংশিকভাবে ব্যাহত হলেও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়। আবহাওয়ার এমন পরিস্থিতিতে হেলিকপ্টার অবতরণ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা সম্পূর্ণভাবে নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনেই করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, আবহাওয়ার বাধা সত্ত্বেও ভার্চুয়াল মাধ্যমে সভা সম্পন্ন হওয়ায় রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ঘটনাটি আবারও দেখিয়ে দিল, আধুনিক প্রযুক্তি কীভাবে অনিশ্চিত পরিস্থিতিতেও বড় রাজনৈতিক কর্মসূচিকে সচল রাখতে পারে, এবং একই সঙ্গে নিরাপত্তা যে সর্বাগ্রে, তা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব।












