
President Approves SHANTI Bill, Major Shift in Nuclear Policy,Photo Credit: ANI
ভারতের পারমাণবিক শক্তি খাতে একটি বড় নীতিগত পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু SHANTI বিল-এ সম্মতি দেওয়ার পর এই বিল আইনে পরিণত হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো দেশের সিভিল পারমাণবিক ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণের পথ আইনি স্বীকৃতি পেল। এতদিন এই খাতটি সম্পূর্ণভাবে সরকারি নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়ে আসছিল।
SHANTI বিলের পূর্ণ নাম Sustainable Harnessing and Advancement of Nuclear Energy for Transforming India। সরকারের মতে, এই আইন ভারতের দীর্ঘমেয়াদি শক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও বিনিয়োগকে আকর্ষণ করবে। বিদ্যুৎ চাহিদা দ্রুত বাড়তে থাকা ভারতের জন্য পারমাণবিক শক্তিকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
এই নতুন আইনের ফলে নির্দিষ্ট নিয়ম ও লাইসেন্সের আওতায় বেসরকারি সংস্থা এবং যৌথ উদ্যোগ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনায় অংশ নিতে পারবে। তবে সরকারের নজরদারি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো বজায় থাকবে। অর্থাৎ, সম্পূর্ণ স্বাধীনতা নয়, বরং নিয়ন্ত্রিত অংশগ্রহণের মডেল গ্রহণ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে সরকার স্পষ্ট করেছে, কিছু অত্যন্ত সংবেদনশীল ক্ষেত্র এখনও সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক জ্বালানির খনি, জ্বালানি সমৃদ্ধকরণ, উচ্চমাত্রার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং কৌশলগত উপাদান উৎপাদন। নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলে জানানো হয়েছে।
সরকারের দাবি, এই আইন বাস্তবায়িত হলে পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনে গতি আসবে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমবে। পাশাপাশি এটি পরিবেশবান্ধব শক্তির বিকল্প হিসেবে ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির সম্ভাবনাও দেখছে প্রশাসন।
তবে বিলটি ঘিরে বিতর্কও কম নয়। বিরোধী দল এবং কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়লে দায়বদ্ধতা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। বিশেষ করে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ এবং দায় নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সব মিলিয়ে, SHANTI বিল ভারতের পারমাণবিক শক্তি নীতিতে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তনের প্রতীক। এটি একদিকে যেমন বিনিয়োগ ও প্রযুক্তির দরজা খুলে দিচ্ছে, অন্যদিকে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার পরীক্ষাও সামনে নিয়ে আসছে। ভবিষ্যতে এই আইন কীভাবে বাস্তবায়িত হয়, তার উপরই নির্ভর করবে এই পরিবর্তনের সাফল্য।












