
National Herald Case: High Court Notices Sonia, Rahul Gandhi,Photo Credit: ANI
ডেলিহাই হাইকোর্টে আবারও ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা দেখা গেছে। দিল্লি হাইকোর্ট সোমবার কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীকে এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের ইনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)–এর আবেদনের বিষয়ে জবাব দিতে বলেছে। ED–এর আবেদনটি মূলত ট্রায়াল কোর্টের সেই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করেছে, যেখানে অর্থপাচারের অভিযোগপত্র গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। আদালত মামলাটির পরবর্তী শুনানির জন্য ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখ নির্ধারণ করেছে।
ট্রায়াল কোর্ট ১৬ ডিসেম্বর একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দেয়। সেখানে বিশেষ বিচারক বলেন, ED–এর অভিযোগপত্র গ্রহণ করা “আইনের দিক থেকে অনুপযুক্ত”, কারণ এটি কোনো প্রাথমিক তথ্য প্রতিবেদন (FIR)–এর ভিত্তিতে দাখিল করা হয়নি। কোর্ট আরও উল্লেখ করে, PMLA (প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট) অনুযায়ী মুদ্রা পাচারের অভিযোগ গ্রহণের জন্য অবশ্যই সংশ্লিষ্ট অপরাধের FIR থাকা আবশ্যক। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ED হাইকোর্টে আবেদন জানায়।
ED–এর যুক্তি ছিল, ট্রায়াল কোর্টের এই সিদ্ধান্ত ভুল এবং এটি ভবিষ্যতে অনুরূপ অন্যান্য মামলার ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের মতে, আইন অনুসারে CrPC–এর ধারা ২০০ অনুযায়ী প্রাইভেট অভিযোগের ভিত্তিতেও মামলা তৈরি করা সম্ভব। শুধু FIR–এর অনুপস্থিতি থাকলেই মামলাটি খারিজ করা উচিত নয়।
মামলাটি মূলত একটি ব্যক্তিগত অভিযোগ থেকে শুরু হয়েছিল, যেখানে গান্ধী পরিবারের বিরুদ্ধে Associated Journals Limited (AJL)–এর সম্পত্তি অনিয়মভাবে দখল ও ‘Young Indian’ কোম্পানির মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল। ED দাবি করেছে, গান্ধী পরিবার এবং অন্যান্যরা প্রায় ২০০০ কোটি রুপি মূল্যের AJL–এর সম্পত্তি দখল করেছে।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, এই মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সরকারের বিরোধিতার জন্য একটি প্রচেষ্টা। মামলার ধারাবাহিকতা এবং আদালতের বিভিন্ন পর্যায়ের সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক ও আইনজীবি মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর পক্ষের সিনিয়র আইনজীবীরা হাইকোর্টে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন এবং আদালতের নোটিশ অনুযায়ী সময়মতো জবাব জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগামী মার্চে মামলার শুনানি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি পুনরায় আইনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসবে।
মামলার প্রেক্ষাপট এবং উচ্চ স্তরের নেতাদের সংযুক্তি এটিকে রাজনৈতিক ও আইনি দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল করে তুলেছে। আগামী শুনানিতে আদালতের সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক পরিবেশেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।












