
Vande Mataram Theme to Highlight Republic Day 2026 Celebration,Source: social media
এই বছর ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের জন্য কেন্দ্র সরকার একটি বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। মূল থিম হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে ‘বন্দে মাতরম’, যা দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় থেকেই মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। এই থিম শুধু রাজধানীর কার্তব্যপথে নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের স্কুল, কলেজ এবং সেনা ব্যান্ডের মাধ্যমে উদযাপিত হবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই থিম দেশব্যাপী মানুষকে একত্রিত করার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও দেশভক্তির চেতনা জাগ্রত করবে। বিশেষভাবে নির্বাচন করা এই গানকে অনুষ্ঠানের কেন্দ্রীয় অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা প্রজন্মের প্রজন্মে ভারতীয় মূল্যবোধ ও ইতিহাসের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে।
এইবারের অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মাত্রাও যোগ হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতাদের প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এতে ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতির উপস্থিতি নিশ্চিত, যা ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে এবং দেশের ভাবমূর্তিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, EU‑কে এই সম্মান প্রদানের সিদ্ধান্ত কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু কূটনৈতিক সম্পর্ককে মজবুত করবে না, বরং বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ভারতকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে। প্রজাতন্ত্র দিবসের সঙ্গে সংযুক্ত এই আন্তর্জাতিক উপস্থিতি দেশের ভাবমূর্তিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে কিছু সমালোচনাও উঠেছে। সমালোচকেরা মনে করছেন, গানটি যদি জোরপূর্বক চাপানো হয়, তবে তা সবসময়ই সার্বজনীন ঐক্যের প্রতীক হিসেবে কাজ নাও করতে পারে। সরকারের ব্যাখ্যা, এটি একটি সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবেই উপস্থাপন করা হবে, যাতে দেশপ্রেম ও ঐক্যকে উৎসাহিত করা যায়।
অনুষ্ঠানসূচিতে টর্চ রিলে, ফ্লাই-পাস্ট, এবং মিলিটারি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যান্ড পারফরম্যান্স অন্তর্ভুক্ত থাকবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে যাতে প্রজাতন্ত্র দিবসকে সর্বজনীন উৎসব হিসেবে উদযাপন করা যায়।
এই ধরনের থিম ও আন্তর্জাতিক অতিথির উপস্থিতি প্রজাতন্ত্র দিবসকে শুধু জাতীয় নয়, বিশ্বমঞ্চে ভারতের সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক শক্তির প্রদর্শনী হিসেবেও উপস্থাপন করবে। এটি দেশের ভাবমূর্তিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং মানুষকে একত্রিত করার পাশাপাশি দেশের গৌরব ও ঐতিহ্যকে উদযাপন করার একটি শক্তিশালী বার্তা দেবে।












